৫ বছর পর শিরোপার স্বাদ পেলো আবাহনী

সর্বশেষ ২০১১ সালে সুপার কাপের শিরোপা জেতে আবাহনী লিমিটেড। এরপর কেটে গেছে পাঁচ বছর। অবশেষে আবারো শিরোপার মুখ দেখলো আকাশী-হলুদরা। সোমবার ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আরামবাগকে ১-০ গোলে হারিয়ে আবার শিরোপা জয়ের স্বাদ নিলো ঢাকা আবাহনী।
 
এরআগে ২০১০ সালে সর্বশেষ ফেডারেশন কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছিল আবাহনী। অন্যদিকে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে একটি শিরোপা আরামবাগের কাছে সোনার হরিণই হয়ে রইলো!
 
মূলত আবাহনীর নিয়ন্ত্রিত ফুটবলই গড়ে দেয় জয়-পরাজয়ের ব্যবধান। প্রচণ্ড গরমে স্বাভাবিক খেলাটাও ছিল কষ্টকর, তবে আবাহনী প্রথমে গোল করার পর যে চালকের আসনে বসে তা থেকে আর বিচ্যুত হয়নি। আরামবাগও পারেনি বিশেষ কিছু করে আবাহনীকে কক্ষচ্যুত করতে।
 
খেলার ছয় মিনিটে আরামবাগ শিবিরে প্রথম হানা দেয় আবাহনী। সম্মিলিত আক্রমণের পর বক্সের মাঝামাঝি স্থান থেকে ডানপায়ের জোরালো গ্রাউন্ডার নিয়েছিলেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা। এটি পাঞ্চ করেন আরামবাগ অধিনায়ক ও গোলরক্ষক মিতুল হাসান। রিবাউন্ডে হেড করেছিলেন ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা কিন্তু মিতুল আবারও বল পাঞ্চ করে কর্নারের বিনিময়ে দলকে বাঁচান।
 
এর পরের মিনিটেই ইংরেজ মিডফিল্ডার লি টাকের করা ফ্রি-কিকে হেড করেছিলেন জুয়েল রানা। কিন্তু মিটুল হাসানের তৎপর চোখ এবারও আবাহনীকে গোল বঞ্চিত করে।
 
তবে ১১ মিনিটে এবার আবাহনীকে রুখতে পারেনি আরামবাগ। লি টাক মাঝমাঠ থেকে নাবিব নেওয়াজ জীবনের থ্রু-পাস আয়ত্ত্বে নিয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে পড়েন আরামবাগ বক্সে। ওয়াল করেছিলেন আরামবাগ ডিফেন্ডাররা কিন্তু গ্যাপ দিয়ে বাম পায়ের বাঁকানো এক শটে মিতুল হাসানকে দূরের পোস্টে পরাস্ত করেন লি টাক। অসহায় মিতুল হাসান ছিলেন মাঝ পোস্টে দাঁড়িয়ে।
গোল হওয়ার পর আবাহনী তাদের লিড ধরে রাখার ব্যাপারেই মনোযোগী হয়ে উঠে আর কেস্টার একন, ইয়োকো সামনিক ও জাফর ইকবালকে নিয়ে গড়া আরামবাগের আক্রমণভাগ পারেনি যথাযথ সমন্বয় করতে।
 
বিরতির পর ফুঁসে উঠে আরামবাগ। ৫০ মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে আবাহনী ডিফেন্স ভেদ করেছিলেন তরুণ ফরোয়ার্ড জাফর ইকবাল। জোরালো শটও নিয়েছিলেন তবে আবাহনী গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল ফিস্ট করে দলকে বিপদমুক্ত করেন।
খেলার সময় ঠিক ঘণ্টার কাঁটা অতিক্রম করছে তখন আরামবাগের ক্যামেরুনিয়ান মিডফিল্ডার ইয়োকো সামনিক নষ্ট করেন আরেকটি সহজ সুযোগ। কেস্টার একনের থ্রু পাসে সামনিক তার মার্কারকে পরাস্ত করে যে শটটি নেন তা ক্রসপোস্টের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়।
 
ফলে আরামবাগকে কাঁদিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতে আবাহনী।