ব্রেক্সিট পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী

ব্রেক্সিট পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বৃটেন চূড়ান্তভাবে বেরিয়ে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকতে বলেছেন। ব্রিটেনের বিষয়ে ইইউ কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় তাও পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ধরা হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা।
 
সভায় ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে। চলতি বছর প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। সংশোধনের ফলে ব্যয় বাড়ল ১৩শ ৫৭ কোটি টাকা। মন্ত্রী জানান, মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য সরকার কারিগরি শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ বছরে কারিগরি শিক্ষার হার ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সাত বছর আগেও দেশে কারিগরি শিক্ষার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ।
 
সভায় ৪৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের ১ম সংশোধনী অনুমোদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন জেলায় ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, ২৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (পাঁচদোনা- ডাঙ্গা-ইসলামপুর খেয়াঘাট অংশ), প্রায় ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলাধীন বৈরাগীরহাট ও চিলমারী বন্দর ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরের ভাঙন হতে রক্ষা (২য় পর্যায়) প্রকল্প (১ম সংশোধিত), ১৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প, প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলদের গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণপূর্বক আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প (৩য় সংশোধিত) এবং বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কলেজ শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্প গতকাল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিচ্ছে ৮০০ কোটি ডলার।
 
বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত নানা সুযোগ-সুবিধার বিবরণ তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। বাংলাদেশে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য মঙ্গোলীয় ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার জাতীয় সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মঙ্গোলিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত গোনচিং গ্যানবোল্ড সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
 
মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পাট এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রী তাদের দেশে আমদানি করে থাকে বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় পাট ও ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রী ছাড়াও বাংলাদেশে থেকে বিভিন্ন পণ্য বিশেষ করে খাদ্য সামগ্রী আমদানিতে এগিয়ে আসার জন্য মঙ্গোলীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
 
দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪টি বাস হস্তান্তর 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিটোল-নিলয় গ্রুপের সৌজন্যে নগরীর দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪টি বাস হস্তান্তর করেছেন। টিকাটুলি এলাকার শের-ই-বাংলা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ এবং আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের কাছে বাস হস্তান্তর করা হয়।
 
পেশাজীবীদের সম্মানে গণভবনে ইফতার মাহফিল
 
গণভবনে বসেছিল পেশাজীবীদের মিলন মেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার পেশাজীবীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। গণভবনের সামনে বিশাল প্যান্ডেলে অনুষ্ঠিত এ ইফতার মাহফিলে বুদ্ধিজীবী, লেখক-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ যোগ দেন। পেশাজীবীদের আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠে গণভবন চত্বর। ইফতারের আধাঘণ্টা আগেই প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় ও তাদের খোঁজখবর নেন। অনেকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক খোঁজ নিতেও দেখা গেছে। অতিথিরাও তার কুশলাদি জানতে চান। পরে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠে দোয়া ও মিলাদে শরিক হন এবং ইফতারে অংশ নেন।
 
ইফতারের আগে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদ, চার জাতীয় নেতা ও ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা ইহসানুল হক।
 
ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মূল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এমিরেটস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, এমিরেটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, স্থপতি ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বিচারপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, এফবিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ, নায়ক রাজ রাজ্জাক এবং কৃষিবিদ ড. আমিরুল ইসলাম।
 
এছাড়াও ইফতার মাহফিলে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেসক্লাব, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, এফবিসিআই, বিজেএমইএসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
 
সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বর্তমানের উপদেষ্টা সম্পাদক রাহাত খান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সকালের খবরের সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সংবাদ সম্পাদক মিশু কবির, একাত্তর টিভির মোজাম্মেল বাবু, নিউজ টুয়েন্টিফোরের শাহনাজ মুন্নী, সামিয়া রহমান, আমাদের সময়ের সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার, হেড অব নিউজ হুমায়ুুন কবির খোকন। সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর ওয়াজেদ, মহাসচিব ওমর ফারুক চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী। আইনজীবীদের নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সিনিয়র আইনীজীবী বাছেদ মজুমদার। এছাড়া কবি মহাদেব সাহা, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, চিত্রনায়ক ফারুক, গোলাম কুদ্দুস, লিয়াকত আলী লাকি, ফকির আলমগীর, মনোরঞ্জল শীল। শিক্ষাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. হারুন অর রশিদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক কামরুল আহসান খান, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ সিকদার, স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, স্বাচিপের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ডা. আবদুল আজিজ, ইঞ্জিনিয়ারদের নেতা কবির আহমেদ ভুইয়া, আবদুস সবুর।