৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নালিতাবাড়ি নাকুগাঁও স্থলবন্দর-ময়মনসিংহ ন্যাশনাল হাইওয়ের নকলা উপজেলার গড়েরগাঁও থেকে পাইস্কা পর্যন্ত নির্মিত বাইপাস সড়কটি নির্মাণের ছয় মাস না যেতেই দেবে গেছে।
সড়কটির গড়েরগাঁও মোড় থেকে পাইস্কা মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে। লাভা গ্রামের মোড়ে প্রায় ৪০ ফিট জায়গায় কোনো পিচ ঢালাই নেই। সড়কটি নির্মাণের সময় বিট বালুর স্থলে ধান ক্ষেতের মাটি দিয়ে রাস্তার মাটি ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরো সড়কটির উপরের পিচ ঢালাইয়ে বর্তমানে যে ফাটল তৈরি হয়েছে তাতে খুব শীঘ্রই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দু’বছর আগে সাতটি পৃথক গ্রুপে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নকলা উপজেলার পাইস্কা গ্রাম থেকে গড়েরগাঁও হয়ে শেরপুর সদর উপজেলার তারাকান্দা বাজার পর্যন্ত ১২ কি.মি দীর্ঘ এ সড়কের নির্মাণ কাজ করে মেসার্স নবারুন ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি কালভার্ট, কিছু জমি অধিগ্রহণ এবং পাইস্কা গ্রামে একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ করে ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ বাইপাস সড়কের নকলা উপজেলার গড়েরগাঁও থেকে পাইস্কা পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মি সড়কটি যুক্ত হয়েছে জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দর থেকে ময়মনসিংহ-ঢাকা ন্যাশনাল হাইওয়ের সঙ্গে। প্রায় ছয় মাস আগে সড়ক ও ব্রিজের কাজ শেষ হয়। ফলে এ ৩ কি.মি সড়কটি উদ্বোধন না হলেও ইতোমধ্যেই নকলা শহরের উপর দিয়ে চাপ কমাতে নালিতাবাড়ি উপজেলা সদর এবং নাকুগাঁও স্থলবন্দর থেকে বিভিন্ন যাত্রিবাহী বাস, পণ্যবাহী ও বালুবাহী ভারি যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে সড়কটির উল্লেখিত স্থানের কোথাও দেবে গেছে, ফাটল দেখা দিয়েছে আবার সড়ক দেবে মাটি বের হয়ে কাদা ছড়িয়ে পড়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী এবং ওই সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম জানান, সড়ক নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে বাইপাস সড়কটি দু’বছর আগে জেলা সড়ক হিসেবে অনুমোদন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জেলা সড়কের পুরুত্ব ধরা হয় ৪’শ মিলি। এ সড়কের উপর দিয়ে ১৫ থেকে ২০ টন ভারি যানবাহন চলাচলের উপযোগী হলেও মূলত নাকুগাঁও স্থল বন্দর-নালিতাবাড়ি-ময়মনসিংহ ন্যাশনাল হাইওয়ের সড়কের ৩০ থেকে ৪০ টন ভারি পাথর ও বালু ভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটির এ অবস্থা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সড়কটি রক্ষায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে যেন এ সড়কে আর কোনো ভারি যানবাহন চলাচল না করতে পারে।