যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ডাকাতের মারধরে আহত উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
জানা গেছে, বুধবার রাতে সেহরী খাওয়ার সময় ১০/১২ জনের একদল ডাকাত চৌগাছা থানার গেটের সামনে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলমের বাস ভবনে হানা দেয়। প্রথমে ডাকাতরা বাড়ির কোলাপসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা নিচ তলার ভাড়াটিয়া উপজেলা পল্লিবিদ্যুতের লাইনম্যান দিলিপের বাসার দরজা কৌশলে খুলে ফেলে ভিতরে প্রবেশ করে। দিলিপের স্ত্রী কনিকা ও মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতদল নগদ ১০ হাজার টাকা ও চল্লিশ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে নেয়। এরপর ডাকাতদল কনিকাকে দিয়ে পাশের ফ্লাটের ভাড়াটিয়া পল্লিবিদ্যুতের লাইনম্যান রেজাইলকে ডেকে তোলেন। এ সময় ডাকাতদল রেজাউল ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৬০ হাজার টাকা মূল্যমানের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এরপর ডাকাতদল রেজাউলের স্ত্রীকে দিয়ে বাড়ির দোতালায় অবস্থানকারী জাহাঙ্গীরের বাসার দরজা খোলায়। কিন্তু জাহাঙ্গীর দরজা খুলেই ডাকাতদের দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। তৎক্ষণাৎ ডাকাতদল জাহাঙ্গীরের মাথায়, বুকে ও পেটে ছুরি দিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ সময় তার স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাকেও ডাকাতরা ছুরিকাহত করে। এ সময় পার্শ্ববর্তী লোকজন চিৎকার করলে ডাকাতদল কয়েকটি বোমা ফাটিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
আহত জাহাঙ্গীরকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চৌগাছা থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মসিউর রহমান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।