স্বরূপকাঠিতে জমে উঠেছে নৌকার হাট

স্বরূপকাঠিতে জমে উঠেছে নৌকা বিক্রির হাট। বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের নদী-খাল-বিল সর্বত্রই যেন পানিতে টইটম্বুর। আর এ মৌসুমে সহজে পথ চলাসহ ফসল বহনের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহূত হয় নৌকা। ফলে এ মৌসুমে বেড়ে যায় নৌকার কদর।
 
বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে জমে উঠছে স্বরূপকাঠির আটঘর খালে নৌকার হাট। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম এখন নৌকার হাট। নয়নাভিরাম নৌকার পসরা দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার আটঘর খালে বিকিকিনি হয় নৌকা।
 
প্রবীণ এক ব্যবসায়ী জানান, আশির দশকের প্রথম দিকে এ খালে নৌকা বিক্রির হাট শুরু হয়। বর্ষা এলেই উপজেলার চামী, গগন, বিন্না গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী নাজিরপুরের উপজেলার বৈঠাকাটা ও বানারীপাড়ার ইলুহার, গাভাসহ বিভিন্ন গ্রামের কাঠমিস্ত্রী নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এসব এলাকার ২ সহস্রাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নৌকা-বৈঠা তৈরি ও বিক্রি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত বসে এ নৌকার হাট। আটঘর খাল ও খালের পাড়ে রাস্তার ওপরে দু’পাশ জুড়ে বিভিন্ন সাইজের নৌকার বেচাকেনা চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
 
চামী গ্রামের নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল খালেক জানান, চাম্বল, মেহগনি, কড়াই, রেইনট্রি, গুলাপ, আমড়া, বাদাম প্রভৃতি গাছের কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করেন। ডুবি গ্রামের নৌকা মিস্ত্রী মোশাররফ হোসেন জানান, একটি নৌকা তৈরি করতে দু’জন শ্রমিকের সময় লাগে একদিন। নৌকার সাইজ ও কাঠের প্রকারভেদে ১ হাজার ৫শ’ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় নৌকা।
 

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বর্ষা ও পানির মৌসুমে ধান, বিলের শাপলা, শাক-সবজি, চাঁই পাতা, নার্সারি ব্যবসা, পেয়ারা, আমড়া, পানি কচু, লেবু, কলা প্রভৃতি কাঁচামাল ও ফসলের বেচাকেনা হয় নৌকায় করেই। আর এ কারণেই এ সময় নৌকার কদর বেড়ে যায়।