বহু দশকের অবহেলা আর অযত্নের পর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়েতে। ঔপনিবেশিক আমলের এই প্রতিষ্ঠানটিকে উজ্জীবিত করতে হাতে নেয়া হচ্ছে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এর আওতায় বিদ্যমান স্টেশনের সংস্কার, ওয়ার্কশপ উন্নয়ন, নতুন ট্রেন ক্রয় ও হাজার কিলোমিটার নতুন লাইন স্থাপন করা হবে।
রেলের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে চীন। এশিয়াজুড়ে বাণিজ্য বাড়াতে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে এই আঞ্চলিক পরাশক্তির।
বাণিজ্য উন্নয়নে এশিয়ায় সিল্ক রোডের ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করে দিয়েছে চীন। তবে থাইল্যান্ডের মত এশিয়ার অপেক্ষাকৃত উন্নত দেশগুলোতে সিল্ক রোডের কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ভয় থেকেই তাদের এই অনাগ্রহ। তবে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে বিনিয়োগের বিষয়টি আকৃষ্ট করেছে বাংলাদেশকে।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, চীনের কাছ থেকে দুই শতাংশ সুদে ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। ঋণ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ সময় পাবে ১৫ বছর। এছাড়াও আরো পাঁচ বছর পাবে 'গ্রেস টাইম'। এ সংক্রান্ত একটি নথি ব্লুমবার্গ দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে তারা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বছর দুই দফায় আলোচনার পর এই বিনিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।
চীনের ঋণ নিয়ে রেলওয়ের ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় ঢাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রাজধানীর সঙ্গে বিভিন্ন শিল্প এলাকা ও সীমান্ত পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপন, বিদ্যমান লাইনগুলোর সংস্কার, নতুন সেতু স্থাপন স্থান পাবে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।