প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় যৌথ অভিযান অল্প সময়ের মধ্যে সফল হয়েছে। এতে ছয় হামলাকারী নিহত, হামলায় জড়িত একজন আটক ও ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কয়জনকে বাঁচাতে পারিনি।
শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়কে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই তথ্য জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি দমন করতে গিয়ে আমাদের দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে তাদের পদক্ষেপের কারণে কোনো জঙ্গি পালিয়ে যেতে পারেনি। অপারেশন সফল হওয়ায় তিনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধান্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, যারা এ ধরনের হামলা চালিয়েছে তারা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ করেছে। পবিত্র রহমান মাসে মুসলিম হয়ে আজান উপেক্ষা করে গেল মানুষ খুন করতে। তারা কেমন মুসলমান? নিজেরাও তো বাঁচতে পারল না। আর এসব হামলাকারীর পরিবারগুলো কী পেল? আসলে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এটা করা হয়েছে। মূলত তারা কোন ধর্মেই বিশ্বাস করে না। তাদের কোন ধর্ম নেই। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডই তাদের ধর্ম।
কিছু গণমাধ্যমে ভূমিকার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, টেলিভিশন ঘটনার সরাসরি সব সম্প্রচার করেছে। র্যাব অভিযানে যাওয়ার আগে পোশাক পরছে সেটাও দেখাচ্ছে। কিন্তু তাদের তো খেয়াল রাখা উচিত যে, ভিতরে বন্দুকধারীরা সবকিছু টেলিভিশনের মাধ্যমে দেখছে। এ কারণে টেলিভিশন সরিয়ে দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু কিছু কিছু টেলিভিশন এটা শুনতে চাচ্ছিল না। আমি এগুলো দেখেছি। বেসরকারি টেলিভিশন তো আমিই দিয়েছি। আমি দিতে পারি, আবার নিতেও পারি। গণমাধ্যমগুলোকে এ ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমেরিকায় বন্দুকধারীর হামলায় ৩০ জন মারা গেল। একটা লাশের ছবিও তারা দেখায়নি। অথচ আমাদের দেশে লাশের ছবি দেখানোর জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের কোন ঠাঁই হবে না। বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের কাজ করতে দেবো না। সন্ত্রাসের পথে যেন পরিবারের সদস্যরা না যায় সেজন্য অভিভাবকদের আরো সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিপথে যাতে কেউ না যায় সেটা দেখার দায়িত্ব সবার। মানুষ নিরাপদে থাকুক এটা আমরা চাই। এক্ষেত্রে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ সময় তিনি মাদারীপুরে আক্রমণকারীকে জনতা ধরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করছি, ঠিক তখনই এ ধরনের ঘটনায় আমাদের হোঁচট খেতে হয়। তারপরও যত-বাধা বিপত্তি আসুক বাংলাদেশ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাস দমনে জনগণকে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।