সাইদুর রহমান
পঞ্চম উপজেলা পরিষদের ৩০টি উপজেলায় তিন পদে (চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান) সবাই ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। আইনানুযায়ী তফসিল হলেও ওই ৩০ উপজেলায় ভোটারাধিকারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ভোটাররা। ভোট না দিতে পারলেও আগামী পাঁচ বছরের জন্য ঠিকই জনপ্রতিনিধি পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দারা। উপজেলা নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই নজিরবিহীন ভাবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক পড়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বড় একটি রাজনৈতিক দল উপজেলা নির্বাচন বর্জন করায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে না।
এবার প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও বিএনপিসহ সরকারবিরোধী প্রায় সবকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জন করেছে। ৫ ধাপে ৪৮০টি উপজেলার নির্বাচন হচ্ছে। চারধাপে এ পর্যন্ত ৪৬৫ উপজেলার তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৮টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি উপজেলায় সবাই ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হন। উপজেলাগুলো হলো-জামালপুরের মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও নাটোর সদর। আদালত ও ইসি ৬টি উপজেলার ভোট স্থগিত করে। গত ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ১২৯টি উপজেলার মধ্যে ১১৬টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ৬টি উপজেলায় সবাই নির্বাচিত হন। এগুলো হলো-নওগাঁ সদর, পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজান। আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে ১২৭টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই ধাপেও ৬টি উপজেলার সবাই বিনা ভোটে নির্বাচিত। উপজেলাগুলো হলো-বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, মাদারীপুরের শিবচর, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, নরসিংদীর পলাশ এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা। এছাড়া আগামী ৩১মার্চ ১২৫ উপজেলায় (অন্যধাপ থেকে সংযোজন) ভোট হচ্ছে। এই ধাপে ১৫টি উপজেলা থেকে তিনটি পদের সবাই নির্বাচিত হয়েছেন। সেগুলো হলো-ভোলা সদর, মনপুরা, চরফ্যাশন, যশোরের শার্শা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, ঢাকার সাভার, কেরানিগঞ্জ, কুমিল্লার লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, দেবিদ্বার, চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবা এবং ফেনীর পরশুরাম। উপজেলা নির্বাচনে চারধাপে এ পর্যন্ত ২১৬ জন বিনাভোটে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। এর মধ্যে ১০৭জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০জন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৫৯জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি চতুর্থ ধাপে ৮৫জন ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন।
দ্বিতীয় ধাপে সর্বনিম্ন ভোট ৮.৬৩ শতাংশ : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোট দেওয়ার হার আরও কমেছে। দ্বিতীয় ধাপের ১১৬ উপজেলায় ভোট পড়ার হার ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রথম ধাপে ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচনের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটি সর্বনিম্ন ভোট। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছিলেন, প্রথমধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপে ভোট বেশি পড়বে। কিন্তু বাস্তবে ভোট পড়েছে কম।
এই ধাপে ১৩টি উপজেলায় ৩০ শতাংশের নিচে ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে সিলেটের জৈন্তাপুরে (৯.৩৮)। এছাড়া বগুড়া সদরে ১৩.১৩, গোয়াইনঘাট ১৬.৫৩, পাবনার সাঁথিয়ায় ২১.৬৬, গাইবান্ধা সদরে ২৪.৮৯, পাবনার বেড়ায় ২৫.৯৭, পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৬.৬৩, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২৭.১৫, বগুড়ার শাহজাহানপুরে ২৭.২৬, নওগাঁর মান্দায় ২৭.৫৭, বগুড়ার ধুনটে ২৭.৫৯ এবং সারিয়াকান্দিতে ২৮.৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২৯টি উপজেলায় ভোটের হার ৪০ শতাংশের কম। পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ভোট পড়ার হার বেশি। সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় ৭৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর আগে প্রথমধাপের উপজেলা নির্বাচনে রাজশাহীর বাগমারায় সর্বনিম্ন ভোট পড়েছিল ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। ৬টি উপজেলায় ৩০ শতাংশের নিচে ভোট পড়ে। দ্বিতীয় ধাপে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৭৪জন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান জয় পেয়েছেন। এছাড়া জাপার ২জন ও স্বতন্ত্র ৩৮জন নির্বাচিত হন। রাঙামাটির ৮টি উপজেলার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনেও ভোট কম পড়েছিল। ওই নির্বাচনে ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পড়ে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদের চতুর্থ সাধারণ নির্বাচনে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। আর ১০ বছর আগে ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি তৃতীয় উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৬৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।