ব্রহ্মপুত্র চরে আটকে পড়া হাতিটি উদ্ধার হয়নি ৭দিনেও

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বন্যার পানিতে ভেসে আসা ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থান করা ভারতীয় বুনো হাতিটি দীর্ঘ ৭দিনেও উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পর্যবেক্ষণে ও ঘটনাস্থলে থাকা বন বিভাগের দলটিও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ভারতীয় দলের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম সোমবার ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থান করা হাতিটির খোঁজ খবর নিয়ে গেছেন। 
 
তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমাদের টিম হাতিটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে যাতে হাতিটির কোনো ক্ষতি না হয়। তাছাড়া হাতিটি যে চরে রয়েছে তার চারপাশে নদের পানি। এ অবস্থায় আমরা হাতিটিকে উদ্ধার করতে পারছি না। ভারতীয় টিম আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
রবিবার বাংলাদেশের বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক অশীত চন্দন পালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বাক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। দিল্লি ও আসাম রাজ্যেও তাদের কর্তপক্ষের কাছে মেইল পাঠানো হয়েছে। হাতিটিকে উদ্ধারে তারা বাংলাদেশে আসবে এমন তথ্য তারা জানিয়েছে কিন্তু কখন কোন দিন আসবে তা স্পষ্ট করে এখনও জানায়নি। আমরা হাতিটিকে নিয়ে এখন বিপদের মধ্যে রয়েছি।
 
এদিকে হাতিটির সর্বশেষ অবস্থান রাজীবপুর উপজেলার অধীনে ব্রহ্মপুত্র নদের ছোট্ট একটি চরের স্থল ভাগে। সেখানে কোনো বাড়িঘর নেই। চরে প্রচুর কাশবন থাকায় হাতিটি তা খাবার হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে প্রয়োজনীয় খাবার ও সঙ্গীর অভাবে হাতিটিকে বিমর্ষ দেখা গেছে। হিংস্র হওয়ার কারণে বন বিভাগের টিমটিও দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ অবস্থায় বেশিদিন থাকলে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়বে। কেননা পানি আর কাদার সঙ্গে যুদ্ধ করে এমনিতে হাতিটি ক্লান্ত। সঙ্গীর অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপনও করতে পারছে না।
 
এমন তথ্য জানিয়েছেন পর্যবেক্ষণে থাকা রাজশাহী বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী সার্জন সোহেল রানা। 
 
তিনি বলেন, ‘হাতিটিকে দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে এক সময় দেখা যাবে মারা গেছে হাতিটি। কেননা তার প্রয়োজনীয় খাবার সে পাচ্ছে না। আমরা খোঁজ খবর রাখছি যে, খাবার পায় কিনা। এছাড়াও রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় তো রয়েছেই।’ IMG0
 
হাতিটি যে চরে অবস্থান করছে সেই চরের ইউপি মেম্বার নুরুল হক জানান, হাতিটির কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। নৌকা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই তেড়ে আসে। তবে হাতিটি যদি এখান থেকে বড়বেড় বা কীর্তনতারি চরে চলে আসে তখন বড় ধরণের সমস্যা হবে। কেননা সেখানে জনবসতি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মানুষের ক্ষতি করতে পারে হাতিটি। আমরা কীর্তনতারি চরের মানুষ খুব ভয়ে আছি। রাত জেগে পাহাড়াও দিচ্ছি। বর্তমানে চরদুটিতে হাতি আতঙ্ক বিরাজ করছে।
 
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন মঙ্গলবার ভারতের আসাম রাজ্যের শিশুমারা পাহাড়ি এলাকার ওই বুনোহাতি রৌমারীর সাহেবের আলগা সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলারনং- ১০৫২ এর নিকট দিয়ে বানের পানির স্রোতে ভেসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। স্রোতের পানিতে ভাসতে ভাসতে নদের চরবাগুয়ার চরে আটকা পড়ে। ওই চরে সারাদিন অবস্থানের পর রাতে আবার স্রোতে ভেসে খেড়–য়ারচর নামক চরে চলে যায়। সেখানে সারাদিন অবস্থানের পর আবারো রাতে হাতিটি ভাসতে ভাসতে দক্ষিণ দিকে রাজীবপুরের নয়াচর মধ্যচর নামক স্থানে আটকা পড়ে এবং সারা দিন সেখানেই অবস্থান করে। এখান থেকে নতুন চর হয়ে সর্বশেষ চড়াইহাটি নামক চরে অবস্থান নেয়।