প্রতিবারের মতো এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
তবে গুলশানের জঙ্গি হামলার ঘটনার পর এবার থাকছে বাড়তি নিরপত্তা। সেই সঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার ঈদুল ফিতরের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ঈদগাহ কমিটি।
ঈদের জামাত হবে সকাল ১০টায়। দীর্ঘ দিনের রীতি অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক মুসুল্লির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নামাজ শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, তিন মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি শটগানের ফাঁকা গুলি ছোড়া হবে।
শোলাকিয়ায় প্রথম ঈদ জামাত হয় ১৮২৮ সালে। সেই হিসাব অনুযায়ী এবারের রোজার ঈদের জামাত হবে এ মাঠের ১৮৯তম ঈদ জামাত। বরাবরের মতোই মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ ঈদের জামাত পরিচালনা করবেন। এরই মধ্যে জামাতের কাতারের লাইন টানা, মাঠ পরিষ্কার করা, ধোয়ামোছাসহ সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।
শোলাকয়িা ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, মুসুল্লীদের নামাজ আদায় নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠ ভিজে জায়গায় জায়গায় পানি জমে গেলেও তা পরিষ্কার করায় ঈদ জামাতে কোনো বিপত্তি ঘটবে না।
এদিকে ঈদ ও রথযাত্রা উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় জামাতে মুসুল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া ছাতা বা ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঈদ জামাত ঘিরে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান বলেন, বরাবরের মত এবারও লাখো মুসুল্লি নিরাপদে শোলাকিয়া ময়দানে নামাজ আদায় করতে পারবেন।