চুতুর্দিকে দেয়াল, উপরে টিন দিয়ে আধাপাকা ঘর। বৃষ্টির পানি বাইরে যেমন পড়ছে ঘরের ভিতরেও তেমনি পড়ছে টুপ টুপ করে। ঘরের ভেতরে থাকা চেয়ার, টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভিজে গেছে। অফিসের লোকজন জড়োসড়ো হয়ে একপাশে বসে আসেন। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর সড়ক ও জনপদের (সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল এমন চিত্র।
ভূঞাপুর সড়ক ও জনপদের (সওজ) উপ-সহকারী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে ভূঞাপুরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় ও থাকার জন্য আবাসিকসহ তিনটি ভবন (টিনসেড বিল্ডিং) নির্মাণ করা হয়। এ পর্যন্ত ঘরগুলোর কোন সংস্কার কাজ না হওয়ায় চালের টিনগুলো মরিচা ধরে খসে খসে পড়ছে। বৃষ্টির পানিতে ঘরের কাঠ পঁচে গেছে। ৭৩ সালে নির্মাণ করা কার্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়েছে এরই মধ্যে। বাকি ওয়ালটুকু যেকোন মুহূর্তে ধসে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ঘরগুলো পরিত্যক্ত হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলীরা টাঙ্গাইল গিয়ে অফিসের কাজ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সওজের অফিস ঘরটির চালের টিন মরিচা ধরে খসে খসে পড়ছে। কাঠগুলো পঁচে কার্যালয়ের দরজা, জানালা ভেঙে গেছে। বৃষ্টির পানিতে অফিসের ভিতর চেয়ার, টেবিল, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভিজে গেছে। একই চিত্র আবাসিক ভবনেরও। সেখানেও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিসের কর্মচারীরা বাধ্য হয়েই ভাঙা ঘরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া কার্যালয়ের বাউন্ডারির দেয়ালের একাংশ ভেঙে পড়েছে। বাকিটুকু যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। যেকোনো সময় ঘর ও দেয়াল ভেঙে প্রাণহানি ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী জানান, ভূঞাপুরে সওজের দায়িত্বপ্রাপ্ত (বর্তমানে চলতি দায়িত্বে) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন ছাড়াও আগে যারা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন তারাও এখানে অফিস করতেন না। কাজের প্রয়োজনে মাসে দুই মাসে একবার আসতেন।
ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিকে বসবাস করা সওজের কার্য-সহকারী রজব আলী শেখ জানান, বৃষ্টির পানি পড়ে ঘরের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কোনো রকমে পরিবার নিয়ে কষ্টে বসবাস করছি।
ভূঞাপুর সওজের সহকারি প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আল আমিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কার্যালয় ও আবাসিক ভবনের জীর্ণদশার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভবন সংস্কার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’