ডালাস হামলাকারীকে হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে ‘রোবট বোমা’

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে খুনের পর বন্দুকধারীকে হত্যায় ‘রোবট বোমা’ ব্যবহার করেছিল পুলিশ। সামরিক এই কৌশল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
 
টেক্সাসের ডালাসে গত বৃহস্পতিবার রাতে কৃষ্ণাঙ্গদের বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উঁচু ভবন থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় পাঁচ শ্বেতাঙ্গ পুলিশকে। এরপর শুক্রবার সকালে বন্দুকধারীও নিহত হন। নিহত কৃষ্ণাঙ্গ মিকাহ জেভিয়ার জনসন যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীতে ছিলেন এক সময়। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর হয়ে লড়েছিলেন তিনি। পুলিশের গুলিতে দুই কৃষ্ণাঙ্গ নিহতের প্রতিবাদের সময় তিনি ওই ঘটনা ঘটান।
 
হামলার পর একটি গ্যারেজে আশ্রয় নেওয়া জনসনকে নিষ্ক্রিয় করতে ‘রোবট বোমা’ ব্যবহার করা হয় জানিয়ে রয়টার্স বলেছে, সামরিক বাহিনী আগে ব্যবহার করলেও পুলিশের এই কৌশল ব্যবহার এটাই প্রথম। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এই কৌশল ব্যবহার করেছিল
 
সামরিক ক্ষেত্রে প্রয়োগের এই কৌশল যুদ্ধক্ষেত্র নয়- এমন স্থানে প্রয়োগের বিষয়ে ডালাসের পুলিশ প্রধান ডেভিড ব্রাউন বলছেন, তাদের কাছে এর বিকল্প ছিল না। তিনি বলেন, জনসন যেখানে ছিলেন, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি ‘রোবট বোমা’ পাঠিয়ে দেয়, রোবটটি যথাস্থানে পৌঁছার পর দূর নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে জনসন মারা যান।  ঠিক ওই সময়ে আমরা কোনো উপায়ই পাচ্ছিলাম না, অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করতে গেলে বাহিনীর অনেক সদস্যকে প্রাণহানির ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া হত। ডালাসের মেয়র মাইক রলিংস বলছেন, বন্দুকধারী জনসনকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ না করে নিজের অবস্থানে থাকার সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন।
 
তবে এটা এখনও স্পষ্ট নয়, ‘রোবট বোমা’ পাঠানোর আগে জনসনকে নিরস্ত্র করতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল। স্পষ্ট নয় এটাই, প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই কৌশল পুলিশ কবে রপ্ত করল।  এসব বিষয়ে ডালাস পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি।
 
দূর নিয়ন্ত্রিত ‘রোবট বোমা’ সরবরাহকারী নর্থরপ গ্রুম্যান কর্পোরেশনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডালাস পুলিশের কাছে তিনটি রোবট বোমা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কোম্পানিটি। এই ধরনের বোমা বেসামরিক বাহিনী ব্যবহার করলেও এমন ক্ষেত্রেই তা ব্যবহার করা হয়, যেখানে কোনো মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে না।
 
সামরিক বাহিনীর কৌশল বেসামরিক বাহিনীর ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে। ২০১৪ সালে মিসৌরির ফার্গুসনে মাইকেল ব্রাউন নামে এক ব্যক্তি পুলিশের অভিযানে মারা গেলে তা নিয়ে বিক্ষোভও হয়েছিল। ওই অভিযানে পুলিশ ব্যাপক সমর সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিল, যা সামরিক বাহিনীই ব্যবহার করে থাকে।
 
যে কর্মসূচির আওতায় পুলিশ সামরিক বাহিনীর কৌশল ব্যবহার করেছিল, মিসৌরির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই কর্মসূচির রাশ টেনেছিলেন। রয়টার্স