ভারতের জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের তরুণ কমান্ডার বুরহান মুজাফফর ওয়ানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগ এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের সূত্র ধরে পুলিশের এক অভিযানে ওয়ানি তার দুই সহযোগীসহ নিহত হন।
এ ঘটনাকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু এরফলে রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগর ও অন্যান্য এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীনগরের অধিকাংশ এলাকায় ও দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সান্ধ্য আইন জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। রাতে দক্ষিণ কাশ্মিরের কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। কুপওয়ারা জেলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি চৌকিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার ওয়ানির নিজ এলাকা ট্রলে ২২ বছর বয়সী এই বিচ্ছিন্নতাবাদীর জানাযায় অংশ নিতে ব্যাপক লোক সমাগম হয়। সম্প্রতি কাশ্মিরে নিহত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জানাযায় প্রচুর লোক সমাগম হচ্ছে। বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনীকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
পুরো কাশ্মিরজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জম্মু বেইস ক্যাম্প থেকে শুরু হতে যাওয়া অমরনাথ যাত্রা কয়েকদিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সরকারি স্কুলগুলোর নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। কাশ্মির উপত্যকার বারামুল্লা থেকে জম্মুর বানিহাল শহর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কাশ্মির দিয়ে যাওয়া শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কও বন্ধ রাখা হয়েছে।
সৈয়দ আলি গিলানি ও মিরওয়াইজ উমর ফারুকের মতো বেশ কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ওয়ানির নিহত হওয়ার জেরে শনিবার কাশ্মির উপত্যকা জুড়ে হরতালের ডাক দিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব নেতাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। একটি প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াসিন মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাশ্মিরের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নতুন পর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন বুরহান ওয়ানি। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত স্থানীয় তরুণদের অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনি। বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াইয়ে তরুণ কাশ্মিরিদের উদ্বুদ্ধ করতে নিজের যোদ্ধা জীবনের ভিডিও করে সেগুলো ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে পোস্ট করেছিলেন তিনি।
এক সময়ের উঠতি ক্রিকেটার ওয়ানি এক সম্পন্ন পরিবারের সন্তান। তার পিতা ট্রলের স্থানীয় সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভবত ব্যক্তিগতভাবে একটি গুলিও না ছুঁড়ে জম্মু ও কাশ্মিরের শীর্ষ ফেরারিদের অন্যতম একজনে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। এনডিটিভি।