খুলনায় সাজাপ্রাপ্ত এক এক বখাটে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকির ভয়ে একমাস ধরে স্কুলে যেতে পারছে না এক জেএসসি পরীক্ষার্থী। নগরীর দৌলতপুর থানার ফুলবাড়িগেট এলাকার এম এ মজিদ ইউসেপ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার অনামিকা (১৪) এবং তার মা মমতাজ বেগম এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
রবিবার বেলা ১২টায় তারা খুলনা প্রেসক্লাবে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। প্রেসক্লাবে জেএসসি পরীক্ষার্থী ফারজানা আক্তার অনামিকা বলেন, দৌলতপুরের মাইলপোস্ট এলাকায় তাদের বাড়ি। তাদের প্রতিবেশী নান্টু মোল্লার ছেলে নাঈম মোল্লা (২৩) প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করত। গত ৩ রমজান স্কুলের কাছ থেকে নাঈম জোর করে অনামিকাকে ধরে নিয়ে ফুলবাড়ীগেট কাজী অফিসে নিয়ে যায় বিয়ে করার জন্য। এ খবর অনামিকার সহপাঠীরা মোবাইল ফোনে তার মাকে জানায়। মা মমতাজ বেগম দ্রুত ছুটে গিয়ে অনামিকা উদ্ধার করে। পরের দিন আবারও নাঈম জোর করে ঘরে ঢুকে মালামাল ভাংচুর করে এবং অনামিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় অনামিকার মা মোবাইল ফোনে ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। সাথে সাথে পুলিশ গিয়ে নাঈমকে আটক করে। অনামিকাকে উত্ত্যক্ত ও জোর করে বিয়ে করার চেষ্টার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত নাঈম মোল্লাকে ৬মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। নাঈম এখন খুলনা জেলা কারাগারে রয়েছেন।
অনামিকার মা মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, তিনি ও তার মেয়ে ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছেন না। নাঈমের বাবা নান্টু মোল্লা, চাচা কুদ্দুস মোল্লা, চাচাতো ভাই লিমন, ফুফু নুরুন্নাহারসহ বেশ কয়েকজন তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি মেয়ের শরীরে এসিড নিক্ষেপ এবং কুপিয়ে হত্যা করবে বলেও তারা হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া নাঈমের চাচা সিদ্দিক মোল্লা ১০০ টাকা মূল্যের দুইটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে অনামিকার ৪টি সই নিয়ে নিয়েছে। এতে তারা দারুণভাবে আতঙ্কগ্রস্ত।
এসব ঘটনা উল্লেখ করে গত ৩ জুলাই অনামিকার মা মমতাজ বেগম দৌলতপুর থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি করার পর পুলিশ কোন সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। গতকাল রবিবার সকালে মমতাজ ও তার মেয়ে অনামিকা দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে গিয়ে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেন। কিন্তু ওসি তাদের উল্টো বলেন, ‘তোমরা বাড়িতে থেকো না। বাড়িতে থাকলে তারা হামলা চালাতে পারে। তোমরা আদালতে গিয়ে মামলা করো।’ একথা শোনার পর নিরুপায় হয়ে মমতাজ ও তার মেয়ে অনামিকা খুলনা প্রেসক্লাবে চলে যান।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার বলেন, অনামিকার মা একজন মামলাবাজ মহিলা। সে তার নিরীহ মেয়েকে ব্যবহার করে লোকজনকে ফাসানোর চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, আইনের রক্ষক হয়ে ওসি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। অসহায় মানুষের নিরাপত্তা দেয়া ওসির দায়িত্ব। স্কুল ছাত্রী অনামিকার ঘটনাটি নিয়ে তিনি তার সংস্থার পক্ষ থেকে আইনি লড়াই করবেন বলে জানান। সাজাপ্রাপ্ত নাঈমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।