গত বৃহস্পতিবার এখানকার লঞ্চ স্টেশনগুলোতে কর্মস্থলগামী মানুষের ঢল নেমেছিল। ঈদের আগে লম্বা ছুটি এবং ঈদের পরবর্তী মাত্র একদিন বাড়তি ছুটি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে মানুষের ঢল পরিলক্ষিত হয় দুপুরের পর থেকেই। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগেই বরিশাল নৌ-বন্দরে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। সপ্তাহের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ১৪টি লঞ্চ ঢাকাগামী যাত্রী পরিবহন করেছে। বেসরকারি লঞ্চ কোম্পানির সিডিউল অনুযায়ী স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী পরিবহনের জন্য ঢাকা থেকে লঞ্চগুলো দুপুরের মধ্যে বরিশাল নৌ-বন্দরে ফিরে আসে। পারাবত কোম্পানির তিনটি এবং কীর্তনখোলা, সুন্দরবন ও সুরভী কোম্পানির দুটি করে লঞ্চের বাইরে ঢাকামুখী যাত্রী পরিবহন করেছে— টিপু-৭, ফারহান-৮, রেডসান-৫, কালাম খান ও দ্বীপরাজ।
সন্ধ্যার আগেই এসব লঞ্চে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ-তিনগুণ যাত্রী বেশি উঠে বসেন। লঞ্চের ডেকে স্থানসংকুলান না হওয়ায় কেউ ছাদে কিংবা লঞ্চের কার্নিশে বসে অথবা দাঁড়িয়ে রওয়ানা হয়েছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। দুপুরের পরই নৌবন্দরে ঢাকাগামী যাত্রীদের ঢল নামে। হাজার হাজার যাত্রী সামাল দিতে র্যাব-পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। ধারণক্ষমতার তিনগুণ যাত্রী বহনকৃত লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ের দুই-এক ঘণ্টা আগেই নৌবন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য করেন সেখানে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বেসরকারি কোম্পানির ১৪টি লঞ্চের বাইরে ঝালকাঠী থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো বরিশাল নৌ-বন্দরে নোঙর করে যাত্রী পরিবহন করেছে। একই সাথে বিআইডব্লিউটিসি’র সরকারি জাহাজ এমভি মধুমতিসহ দুটি রকেট স্টিমার ঢাকাগামী যাত্রীদের পাশাপাশি চাঁদপুরগামী যাত্রী পরিবহন করেছে। লঞ্চ চালক ও স্টাফরা জানান, ঈদের পরবর্তী সপ্তাহের শেষ দিন থাকায় গত বৃহস্পতিবার বিপুল সংখ্যক যাত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। গত শনিবার পর্যন্ত কর্মস্থলগামী যাত্রীর চাপ ছিল বলে মালিকরা জানিয়েছেন। এ কারণে ওই দিন পর্যন্ত রোটেশন পদ্ধতি চালু না করে লঞ্চগুলো স্পেশাল সার্ভিসে যুক্ত ছিল বলে একাধিক লঞ্চ মালিক জানান। তারা জানান, আজ রবিবার তাদের রোটেশনের বাইরে দুই-একটি কোম্পানির অতিরিক্ত লঞ্চ থাকতে পারে।
এদিকে নৌপথে যখন কর্মস্থলগামী মানুষের উপচেপড়া ভিড় ও নৌযানগুলোতে স্থানসংকুলান না হওয়ায় এবার বিলাসবহুল লঞ্চের যাত্রীদের সিংহভাগই আকাশ পথে পাড়ি জমিয়েছেন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। ঈদ উপলক্ষে সরকারি বেসরকারি তিনটি বিমান কোম্পানি ফ্লাইট বৃদ্ধি ও ভাড়া বৃদ্ধি করেও যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পারছেন না। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা ও নভো এয়ারের কোনো ফ্লাইটে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার কোনো টিকেট নেই। সবগুলো ফ্লাইটের টিকেট আগাম বিক্রি হয়েছে বলে কাউন্টার থেকে জানানো হয়।