আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, অশুভ ফায়দা হাসিলের জন্য একটি উগ্রবাদী-ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সম্প্রতি গুলশানে বিদেশিসহ নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এরপর শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত শুরুর প্রাক্কালে বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। এ সময় কর্তব্যরত দুই পুলিশও প্রাণ দিয়েছে। গুলশান ও শোলাকিয়ার এই ট্রাজেডি দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর আঘাত। এর বিরুদ্ধে দলমত, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মন্ত্রী গতকাল রবিবার তার মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে ইত্তেফাককে এ কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশ যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সার্বিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখন একটি প্রতিক্রিয়াশীল মহল তাদের বিদেশি প্রভুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের সকল অর্জনকে নস্যাত্ করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা স্থিতিশীলতা নষ্ট এবং অগ্রগতির ধারা ব্যাহত করতে চায়। বিএনপি জোটের উদ্দেশে ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, এখন সরকারের বিরোধিতা করার সময় নয়। বিরোধিতার অনেক সময় পাওয়া যাবে। এখন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের সময়। এ কাজে সরকারকে সহযোগিতা করুন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঈদের দিন দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সরকারকে আক্রমণ করছেন। এটা কীসের ইঙ্গিত? এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারাই থাকুক না কেন তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানুষ
খুনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে
কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে
এদিকে গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক যৌথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবর্তে মানুষ খুনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে। যদি খুন করার শিক্ষা দেওয়া হয় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদের ইমাম, স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে নিয়ে প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠনের তাগিদ দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠন করুন। তবে কমিটি যেন আওয়ামী লীগের না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে কমিটির প্রধান হিসেবে মসজিদের ইমাম, স্কুলের শিক্ষকসহ সর্বসাধারণকে রাখতে হবে।’ মোহাম্মদ নাসিম বলেন, টুপি, পাঞ্জাবি পরে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এটা কোন ধর্ম? আসলে ধর্মের নাম দিয়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তি এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে যারা এই সমস্ত হামলা চালাচ্ছে তাদেরকে বিএনপি-জামায়াত পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়ার হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে থাকলে এটা আন্তর্জাতিকভাবে সমাধান করতে হবে। আর এটা যদি আমাদের জাতীয় সমস্যা হয়ে থাকে জাতীয়ভাবেই সমাধান করতে হবে।
আজ সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশ সফল করতে ও গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি ও শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের কাছে হামলার প্রতিবাদে এ সভার আয়োজন করা হয়।