শঙ্খ নদীর করাল গ্রাসে ১৬টি বাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত নদীর নাম শঙ্খ। সেই শঙ্খ নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে ১৬টি বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।
 
প্রতি বছর এভাবে শঙ্খ নদীর ভাঙনে চন্দনাইশের মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে উপজেলার বরমা ইউনিয়ন। গত ঈদুল ফিতরের আগে টানা প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় থেকে নেমে আসা শঙ্খ নদীর পানির ঢলে চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ পশ্চিম চর-বরমায় নদীর ভাঙনে ১৬টি বসতবাড়ি এবং কয়েক একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সর্বস্ব হারিয়ে এসব পরিবারের লোকজন খোলা আকাশের নিচে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়াও ভারি বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদী তার দুই তীর ভাসিয়ে দেওয়ায় চন্দনাইশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল বরমা ইউনিয়নসহ বরকল, পাঠানদন্ডী, হারলা, জোয়ারা, ফতেনগর হাশিমপুর বড়পাড়া, আড়ালিয়া ও জামিরজুরি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে শত শত পরিবার। ২০১৫ সালের বন্যায় শঙ্খ নদীর ভাঙনে চর বরমা এলাকায় ৪০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ার সংবাদ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের টনক নড়ে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার মিটার সি.সি ব্লক বসানোর কাজ হাতে নেয়। মেসার্স রহমান কনস্ট্রাকশনের টিকাদার গত ৫ মার্চ কাজ শুরু করলেও জনবল এবং সময় স্বল্পতার কারণে যথাসময়ে ব্লক বসাতে না পাড়ায় চলতি বর্ষায় শঙ্খ নদীর ভাঙনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রতন বাবু এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার আনিসুল হক ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড মাসখানেক আগে প্রকল্পের কাজ হাতে নিলে এতো বড় ক্ষতি হতো না।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময় স্বল্পতার কথা স্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই সি.সি ব্লক বসানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।