ব্রেক্সিট :দ্বিতীয় গণভোটের আশা শেষ!

ব্রিটেনের ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন ছিল এ বছরের ২৩ জুন। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে থাকা না থাকার প্রশ্নে দেশটির জনগণের মতামত জানতে এদিন আয়োজন করা গণভোটে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার চাওয়াটাই শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইইউর পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গঠন করতে দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন ব্রিটিশ জনগণ। গণভোটে পরাজিত হওয়ার পরও ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। ইইউ’র প্রতি আবেগ-ভালোবাসার টানে তাই আবারো গণভোটের দাবিতে রাষ্ট্রের কাছে দাবি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ব্রিটিশরা। তবে তাদের সেই দাবির প্রতি খুব একটা সাড়া দেয়নি সরকার।   
 
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে (লিভ) রায় দিয়েছিলেন শতকরা ৫১.৯ ভোটার। আর ইইউ’র পক্ষে ছিলেন ৪৮.১ শতাংশ ভোটার। ভোটের ফলাফলে খুব বেশি ব্যবধান না থাকায় ‘থেকে যাওয়ার পক্ষের ভোটাররা’ আবারো গণভোট আয়োজনের দাবিতে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে পিটিশন করেন। ঐ পিটিশনকে শুধু পিটিশন বললে ঠিকমতো বোঝানো যাবে না। অনলাইনে করা ঐ পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিলেন ৪১ লাখ মানুষ। হ্যাঁ-না পার্থক্য ১২ লাখ থেকে ঢের বেশি মানুষ। তবু মন গলেনি সরকারের। ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা বা না থাকা প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট আয়োজনের দাবিতে করা পিটিশন বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
 
পিটিশনে যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে গণভোট নিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়নের দাবি করা হয়। গণভোটে কোনো পক্ষ যদি ৬০ শতাংশের কম ভোট পেয়ে জয়লাভ করে এবং মোট ভোটারের ৭৫ শতাংশের কম যদি ভোট দেয় তবে নতুন করে গণভোট আয়োজন করার জন্য নতুন একটি আইন প্রণয়নের দাবিও করা হয়। গণভোটের দাবিতে রাস্তায় নামা মানুষের হাতের প্ল্যাকার্ডে একটি কথা সবার নজর কেড়েছে। নিজেদের পরিচয় হিসেবে তারা প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন ‘উই আর ফোরটি এইট পারসেন্ট’ অর্থাত্ আমরা সেই ৪৮ শতাংশ।
 

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র অধিদপ্তর পিটিশন আবেদন বাতিল করে জানিয়ে দেয়, আইন প্রণয়ন করে কম ভোটার উপস্থিতির জন্য বা ভোটের ফলাফলের জন্য সীমা নির্ধারণ করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকার পরিষ্কার করে বলেছে, এটা ঐতিহাসিক ভোটগুলোর একটি। ২৩ জুন জনগণ যে রায় দিয়েছে তার প্রতি সম্মান জানাতে বদ্ধপরিকর সরকার। সেখান থেকে সরে এসে নতুন কিছু করাটা হবে জনগণের প্রতি প্রতারণার শামিল। ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য তাগাদাও দেওয়া হয়। একই সাথে রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানানো হয়।