রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের অনেকেই বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। হামলার আইএস তাদের সাইটে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করার পর পরিবার তাদের অবস্থানের কথা জানতে পেরে।
গুলশানের এই ঘটনার পর যেসব তরুণরা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পরিবার। তারা নিখোঁজ তরুণদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক গ্রুপ ‘ডেসপারেটলি সিকিং মিসিং পারসনস (বাংলাদেশ)’-এ প্রকাশ করছে।
পুলিশ বলছে, চলতি সপ্তাহে ১০ জন তরুণের নিখোঁজের খবর আমরা পেয়েছি যাদের অনেকেই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। তারা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উগ্রবাদীতের উসকানিমূলক বক্তব্য আছে এমন ভিডিও ক্লিপ প্রকাশের ব্যবহারে ইউটিউবকে সতর্ক করে দিয়েছে সরকার। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিহাদিদের বার্তা প্রচারের ব্যাপারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গুলশানের রেস্তোরাঁতে হামলাকারীরা কোনোভাবে দেশ ছেড়ে গেছে কি না তা বের করার জন্য এয়ারলাইন ও পোর্ট রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গত বছর বিদেশিসহ কয়েকজনকে হত্যা ঘটনার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফেলো লিসা কুর্তিস বলেছেন, এই হামলা দক্ষিণ এশিয়ায় জিহাদিদের হামলার একটি শোডাউন।
নয়াদিল্লির সন্ত্রাস বিশেষজ্ঞ ও ইনস্টিউিট ফর কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অজয় শাহনি বলেছেন, তবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হামলাগুলোর সঙ্গে কোনো যোগসূত্র বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রমাণ খুব কম পাওয়া গেছে। রেস্তোরাঁয় হামলাকারী হামলা চালানোর সময়ই নিহতের রক্তাক্ত ছবি ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংযুক্ত একটি ইমেল অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিল। সেই ছবিগুলো দ্রুতই আপলোড করা হয়।
সাহনি বলেন, ইসলামিক স্টেটের মতো গ্রুপগুলো তাদের সদস্য অনলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। তাই শিক্ষিত তরুণরা সেদিকে ঝুঁকতেই পারে।
অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গত দুই বছরে বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন তরুণ নিখোঁজ হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে কেউ কেউ সিরিয়া গেছে। আর কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পেয়ে ফিরে এসেছে।
গত মঙ্গলবার ইসলামিক স্টেট একটি ভিডিও প্রকাশ করে যাতে তিন বাংলাদেশি ছিল। সিরিয়ার রাক্কায় এই ভিডিও ধারণ করা হয়। সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপের ভাষ্যে, তারা বাংলাদেশে আরো হামলার হুমকি দিয়েছে।
পুলিশ বলেছে, তারা এমন কিছু ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মেডিকেল প্রতিনিধি, ইসলামি শিক্ষক ও ব্যাবসায়ীদের চিহ্নিত করা হয়েছে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ ও মুখোমুখি লোকবল সংগ্রহ করে।
তদন্তকারীরা বলছে, একজন প্রকৌশলী ও একজন সাবেক শিক্ষকসহ অতীতে যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিকভাবে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।-ওয়াশিংটন পোস্ট।