শোলাকিয়ায় আটক শফিউলই মঠের অধ্যক্ষ খুনের আসামি

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটক শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান (২০) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায় (৫০) হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। গত ২৮ জুন আদালতে পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে তাকে ১০ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 
 
গত ৭ জুলাই শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের আধা কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশ চেকপোস্টে কয়েকজন হামলা করে। হামলার পরপর পুলিশের অভিযানে দিনাজপুরের মাদ্রাসা ছাত্র শফিউল আলম ওরফে শরীফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল ইসলাম ওরফে সোহান গুলিবিদ্ধ অবস্থায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি          র্যাব হেফাজতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার হাটশ্যামগঞ্জ দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামে। সে ওই এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। 
 
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দীন আহম্মেদ অধ্যক্ষ হত্যা মামলার চার্জশিটে শফিউলের নাম রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
 
 দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ও যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী জানান, চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জে যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাবের হাতে আটক শফিউল জড়িত।
 
চার্জশিটে এই ১০ জনকে জেএমবির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  আসামিদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার ও ৬ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। অধ্যক্ষ হত্যার ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা অপর মামলার চার্জশিটেও শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহানের (২০) নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
 
পঞ্চগড় আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান জানান, যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের দেওয়া চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিট শুনানির জন্য আদালত থেকে তারিখ ধার্য করা হয়নি। শুনানির পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কাজ শুরু হবে।
 
চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকাল ৬.৪৫ মিনিটে আসামি নজরুল ওরফে হাসান, রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ও শফিউল আলম ওরফে ডন মোটর সাইকেলে করে মঠে আসে। নজরুল মোটর সাইকেলে বসে থাকে। রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ও শফিউল আলম ওরফে ডন মোটর সাইকেল থেকে নেমে মঠের ভিতরে যায়। রাজিবুল যজ্ঞেশ্বর রায়কে চাপাতি দিয়ে কোপ মারে এবং দেহ হতে মস্তক দ্বিখণ্ডিত করে ফেলে। এরপর রাজিবুল ইসলাম ও শফিউল আলম দু’জনেই পিস্তল দিয়ে গুলি করে। পরে ককটেল ফাটিয়ে মোটর সাইকেলে করে চলে যায়।
 
দেবীগঞ্জ থানার ওসি সুকুমার মোহন্ত জানান, যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত ২ নম্বর আসামি রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন গুলশান হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছেন। তার বাড়ি বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্র কুষ্টিয়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মোল্লার পুত্র।
 
টাঙ্গাইলের কালিহাতি থেকে নজরুলের
 
দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেফতার
 
যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ৪ নম্বর আসামি নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসানের (২৬) দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম শাহানাজ আক্তার সাথী। নজরুলের বাড়ি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের সোনাহার গজপুরী গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল্লাহ।