প্রতিবেশী নাইনকা রবিদাসকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে মাকু রবিদাসের (৪৭) ফাঁসি কার্যকর হয়েছে সিলেট বিভাগীয় কেন্দ্রীয় করাগারে। ১৩ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে এ ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন। ফাঁসি কার্যকরের সময় মাকু স্বাভাবিক ছিলেন বলে জানান একজন নিরাপত্তারক্ষী।
এর আগে মাকু রবিদাস কারা কর্তৃপক্ষের কাছে শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বনফুলের মিষ্টি খেতে চাইলে তার ইচ্ছানুযায়ী এক কেজি বনফুলের মিষ্টি কিনে দেন কারা কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে নারকেল, ডাব, পোলাও খেতে চেয়েছেন মাকু রবিদাস। সেগুলোও নিজ খরচে কিনে এনে খেতে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য কাশিমপুর কারাগার থেকে জল্লাদ রাজুকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় এর অগে।
২০০৩ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত নাইনকা রবিদাস হত্যা মামলায় (দায়রা ৫৭/২০০২) মাকু রবিদাসকে মত্যুদণ্ডাদেশ দেন। ২০০১ সালের ৩১ অক্টোবর রাতে মাত্র ২ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রতিবেশী নাইনকা রবিদাসকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। পরবর্তীতে মাকু রবিদাস জেল আপিল (জেল পিটিশন নং-০৩/২০০৭) করলেও তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানালে তাও নামঞ্জুর হয়।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন জানান, তার পরিবারের লোকজনের দেওয়া খাবার পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে খেতে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাত ৮টায় মাকু রবিদাসের দুই মেয়ে ও দুই ছেলে সহ আরো ৫ জন শেষ দেখা করেছে। মাকু রবিদাসের স্ত্রী প্রায় ৬ মাস আগে মারা গেছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মাকু রবিদাস হবিগঞ্জ জেলার চুনার“ঘাট উপজেলার দারাগাওয়ের সমাধনী রবি দাসের ছেলে।