ঢাকার ইএমকে সেন্টারে শুরু হতে যাচ্ছে ‘এনিগমা’ শীর্ষক তরুণ শিল্পী সৈয়দ ফিদা হোসেনের প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীটির শুভ উদ্বোধন হবে আগামী ১৬ জুলাই বিকাল সাড়ে পাঁচটায়।
মার্কিন দূতাবাসের সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকর্তা এলিজাবেথ থর্নহিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী জামাল আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান ও সভাপতিত্ব করবেন ইএমকে সেন্টারের পরিচালক জনাব এম.কে. আরেফ।
আর্টকন-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় এবং ইএমকে সেন্টার-এর আয়োজনে এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৬ থেকে ২৮ জুলাই ২০১৬ পর্যন্ত, প্রতিদিন (শুক্রবার ব্যতীত) সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
IMG0
শিল্পী সৈয়দ ফিদা হোসেন ১৯৮৯ সালে দিনাজপুর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ-এর ড্রইং ও পেইন্টিংস বিভাগ থেকে ২০১১ সালে বি.এফ.এ এবং ২০১৫ সালে এম.এফ.এ ডিগ্রি অর্জন করেন।
ফিদা মানব অস্তিত্বকে মন, শরীর ও আত্মার ত্রয়ী পরিপ্রেক্ষিতে দর্শন করেন, সম্মিলিতভাবে একে অবলোকন করেন সত্তার সত্ত্ব হিসেবে। এই অস্তিত্ব ভালো ও মন্দের দ্বৈবিধ্যতার অবিরত সংঘর্ষের ভিতর নিহিত, চূড়ান্তভাবে যা পরিণতির দিকেই পরিচালিত হয়। এই সংগ্রামের ভেতরেই তিনি খুঁজে পান নান্দনিক বৈচিত্র্য, যা-কিনা সৃষ্টি করে বৈচিত্র্যময় নানান উপাখ্যান। তার চিত্রকর্মে রয়েছে শিল্পীর এক নীরব স্ব-অন্বেষণ, যা এই সংগ্রামকেই মূর্ত করে তোলে। এই প্রতিকূল লড়াই আরোও রূপায়িত হয় এক যান্ত্রিক উপস্থাপনায় যা জীবন ও এর অন্তঃস্থিত অস্তিত্বকে অনুধাবন করেন বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন ও নিজস্ব চেতনায় অবগত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সত্ত্বার পুনরাবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে। শিল্পী ফিদা এই প্রকরণকে অভিহিত করেছেন ‘মনুষ্যপ্রকৃতি’ বা ‘মনুষ্যধর্ম’ সংজ্ঞায়। এ-সকল অনুভূতির সংমিশ্রণকে আখ্যায়িত করেছেন কৃত্রিমতা হিসেবে।
শিল্পী সৈয়দ ফিদা হোসেন ছাত্রবস্থাতেই একাডেমিক বৃত্তি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ১৮তম জাতীয় শিল্পকলা প্রদর্শনীতে ‘দীপা হক পুরস্কার’ অর্জন করেন ২০০৯ সালে এবং ২০১৪ সালে আয়োজিত ১৯তম নবীন শিল্পী শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে লাভ করেন ‘সম্মানসূচক পুরস্কার’। ২০০৮ সালে শিল্পী আমিনুল ইসলাম বৃত্তি, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু চিত্র প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় ‘সম্মান সূচক পুরস্কার’ অর্জন করেন। ২০১০ সালে ইরানের ১৭তম আন্তর্জাতিক শিল্প উত্সব ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ও পুরস্কার লাভ এবং একই বছর একাডেমিক বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে ‘মিডিয়া বেস্ট এওয়ার্ড’ লাভ করেন। ২০১৪ সালে অনুষদের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে ‘শিল্পী দেলোয়ার হোসেন স্মৃতি পুরস্কার’ অর্জন করেন।