নাগেশ্বরীতে অজ্ঞাত রোগে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু

নাগেশ্বরীতে গত এক সপ্তাহে অজ্ঞাত রোগে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। আতঙ্কে গবাদিপশু অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন গৃহস্থ। এখনো রোগ নির্ণয় করতে পারেন নি পুশুর চিকিৎসকেরা। অনুমান নির্ভর প্রতিষেধকে ঠেকানো যাচ্ছে না গরুর মৃত্যু। ওষুধে কাজ না হওয়ায় অনেকেই পশুর গলায় ঝুলিয়ে দিচ্ছেন তাবিজ। অজ্ঞাত রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে পাশের গ্রাম গুলোতে।

জানা যায়, উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের মহসিনের চর, কামারের চর, রঘুরভিটা, দেওয়ানগাজি, কেদার ইউনিয়নের ছালামের চরসহ চরাঞ্চলীয় গ্রামগুলোতে গত এক সপ্তাহে কিছু সুস্থ সবল গরু হঠাৎ করে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যাচ্ছে। পশু চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় করতে না পারলেও অনুমান নির্ভর প্রতিষেধক দিচ্ছেন। এতে ঠেকানো যাচ্ছে না গো-মৃত্যু। অনেকেই নিজেদের গবাদিপশু বাঁচাতে কবিরাজি ঝাড়ফুঁক ও আক্রান্ত নয় এমন গরুর গলায় তাবিজ ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। তাতেও অবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি। 

স্থানীয় পশু চিকিৎসক ছানোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত মহসিনের চরে ৪৩টি, রঘুরভিটায় ১৩টি, দেওয়ানগাজীতে একটি, কেদার ইউনিয়নের ছালামের চরে দুইটি গরু মারা গেছে। ধারনা করা হচ্ছে, এসব এলাকার সব গরুই আক্রান্ত হয়েছে এই অজানা রোগে। 

সরেজমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সময় রঘুরভিটা গ্রামের মন্টু মিয়া, অলিল চন্দ্র, কেসমত আলী, সুলতান মিয়া, নূর মোহাম্মদ, নূর হোসেন, নালুয়া, আব্দুল হামিদ, জসিম উদ্দিন জানান, গত এক সপ্তাহে অজানা রোগে প্রত্যেকেরই একটি থেকে ছয়টি গরু মারা গেছে। একই কথা জানালেন গ্রামের অন্যরাও।

গরু মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা গবাদিপশু বাঁচাতে ক্যাম্পেইন করছেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে জানাচ্ছেন আপাতত তারা যেন তাদের গবাদিপশুকে গো-চারণ ভূমিতে নতুন গজিয়ে ওঠা ঘাস না খাওয়ায়। রোগের লক্ষণ দেখা মাত্র উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে খবর জানানোর পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, আমাদের টিম তিনদিন থেকে ওইসব এলাকায় কাজ করছে। সাসপেক্ট অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতামূলক আলোচনা চলছে। রোগ সনাক্তের জন্য মৃত গরুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন: উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য যেন মানুষের ক্ষতি না হয়: প্রধানমন্ত্রী

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান বৃহস্পতিবার রঘুরভিটা গ্রাম পরিদর্শন করেন এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। ধারনা করা হচ্ছে বিষাক্ত ঘাস খাওয়ানোর ফলে গরুগুলো মারা গেছে। তবে ল্যাবের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এলাকার লোকজনকে আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/অনি