গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা দুরূহ ও কঠিন কাজ। তারপরেও জাতির এমন বিপদে সব ভেদাভেদ ভুল ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। আমরা সকল জনগণের ঐক্য চাই। সংবিধানের মূলনীতি মেনে চলা দলগুলোর মধ্যে সে ঐক্য চাই।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক, জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই’- শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু। এতে তিনি ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে এবং ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের কাছে হামলা ও হত্যা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন- হামলাকারীরা আসলে কারা? তাদের পেছনে কারা জড়িত? তারা কি চায়? কেন এই নারকীয় ঘটনা ঘটলো? তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিকাশের কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য করেছে। এসব সন্ত্রাসী ঘটনাবলী স্থানীয় উদ্যোগে সংঘটিত হয়েছে, নাকি এসবের পেছনে আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল তা জানা প্রয়োজন। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অস্ত্র ও অর্থের উৎস সম্পর্কে গণমাধ্যমগুলোর গভীর অনুসন্ধান করা দরকার। এসব বিষয়ে জানার জন্য কিছু-কিছু আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেয়ার প্রয়োজনও হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
ড. কামাল আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন গণআন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যুবসমাজ কীভাবে অগ্র-সৈনিক হিসাবে ভূমিকা পালন করেছিল তা সবার স্মরণ আছে। গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ছাত্র ও যুব সমাজকে সচেতন করে এমনভাবে সক্রিয় করতে হবে, যেন অতীতের মত তারা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিসমূহকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা- অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার, আ.ও.ম শফিক উল্লাহ, মোশতাক আহমেদ প্রমুখ।