আজ শিরাজীর স্মৃতিবার্ষিকী

আজ ১৭ জুলাই, শিরাজীর স্মৃতিবার্ষিকী। উপমহাদেশে বিশেষত বাংলার মুসলিম পুনর্জাগরণ ও ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত মহাকবি ও কিংবদন্তী বাগ্মী সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন শিরাজীর আজ ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৩ জুলাই তার জন্মবার্ষিকী। শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষত বাঙালি সমাজের অগ্রগতি সাধনে তিনি জাগরণমূলক সাহিত্য রচনা, সভা-সমাবেশ, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, সমবায় সমিতি গঠন এবং ব্যবসায়-বাণিজ্যে তরুণ ও যুবকদের হাতে-কলমে শিক্ষা ও উত্সাহ দান করেন। মুসলিম নারী মুক্তির অগ্রদূত শিরাজী অন্তঃপুর থেকে নারীকে শিক্ষাঙ্গনে বের করে আনেন। ১৯২৫ সালে তিনি বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম ও অন্যতম জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি জানান।
 

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা শিরাজী শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাঙালিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে ছিলেন আলোকবর্তিকাস্বরূপ। তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মূল লক্ষ্যই ছিল জাতীয় পুনর্জাগরণ এবং স্বাধীনতা অর্জন। একাধিকবার কারাদণ্ডে দণ্ডিত শিরাজী দুইখানি বিশাল মহাকাব্য, ‘অনল প্রবাহ’সহ কয়েকখানি গীতিকাব্য, ৪টি ঐতিহাসিক উপন্যাস, বহু সংখ্যক প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী ও গান রচনা করেন। রাজদ্রোহমূলক সাহিত্য হিসাবে শিরাজীর জাগরণী কাব্য ‘অনল প্রবাহ’ উপমহাদেশে প্রথম বাজেয়াপ্ত গ্রন্থ। এ জন্য তার দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়। শিরাজীর সমস্ত পাণ্ডুলিপি বাংলা একাডেমী থেকে গায়েব। স্মৃতিবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন আজ শিরাজী স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। সিরাজগঞ্জে ‘বাণীকুঞ্জে’ আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় স্মরণমঞ্চ এই উপলক্ষে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।