হাকিমপুরে রাস্তায় মাটি কাটার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের চেংগ্রামের রাস্তায় মাটি কাটার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এক মাস আগে সরকারি অর্থ ব্যয়ে রাস্তায় মাটি কাটা হলেও রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে গত শুক্রবার থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করার কাজ শুরু করেছেন এলাকাবাসী।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাজের বিনিময়ে টাকা-কাবিটা) বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯২৯ টাকা ৫০ পয়সা (৫০ মেট্রিকটন গমের মূল্য) ব্যয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে হিলি স্থলবন্দর-বিরামপুর প্রধান সড়কের পূর্বপাশে চেংগ্রাম হয়ে বিশাপাড়া মাদ্রাসা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তায় মাটি দিয়ে সংস্কার কাজ করা হয়।
 
গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, চেংগ্রামের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রিকশা ভ্যান চালক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটির সংস্কার কাজ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, এটি গ্রাম থেকে বের হয়ে হিলি ও বিরামপুরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। এক মাস আগে রাস্তার ওপর মাটি দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। যে কাজ হয়েছে তাতে বরাদ্দকৃত টাকার তিন ভাগের এক টাকাও ব্যয় করা হয়নি। রাস্তার মাটি কোদাল দিয়ে কোনো রকম চেঁচে লোক দেখানো কাজ করা হয়েছে।
 
চেংগ্রামের সার্ভেয়ার মনতেক আলী বলেন, বর্ষার সময় লোক দেখানো কাজ করে গ্রামবাসীর কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। রাস্তা দিয়ে ভ্যান-রিকশা তো দূরের কথা হেঁটে চলাও দায়। বরাদ্দের টাকায় রাস্তাটি এইচবিবি করা যেত। হাকিমপুর ডিগ্রী কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোকারম হোসেন ও ইব্রাহিম ইসলাম বলেন, এর আগে গ্রামের লোকজন রাস্তায় ধানও লাগিয়েছিল। তারপরেও রাস্তাটির উপর জনপ্রতিনিধিদের চোখ পড়ে না। স্থানীয় সংসদ সদস্যও রাস্তাটি দেখে গেছেন।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সজীবুল করিম বলেন, রাস্তার মাটি কাটার কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। রাস্তার কাজ এখনো শেষ হয়নি। কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। এখন আবার শুরু করা হবে। প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তায় প্রায় একফুট মাটি দিয়ে উঁচু করা হচ্ছে।