হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন ছিল সামগ্রিক বাংলাদেশকে ঘিরে: শাওন

 
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কাছে নিজের নিজস্ব স্বপ্নের চেয়ে সামগ্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নটাই বেশি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। মঙ্গলবার নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
 
মেহের আফরোজ শাওন বলেন, গত বেশ কয়েক সপ্তাহ জুড়ে পুরো বাংলাদেশের যে অবস্থা, যে ধরণের আঘাত বাংলাদেশের উপর আসছে, আমার কাছে মনে হচ্ছে সেটার জন্য হুমায়ূন আহমেদ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। কারণ আমরা সব সময় দেখে আসছি দেশের উপর বড় ধরণের আঘাত আসলে তার কলমকে আমরা সেচ্চার হতে দেখেছি। আমি ব্যাক্তিগতভাবে তাকে যতটুকু জানি, তার কাছে প্রথম সামগ্রিক বাংলাদেশকে ঘিরে স্বপ্ন। তারপরে ছিল নিজস্ব স্বপ্ন। সামগ্রিক বাংলাদেশকে নিয়ে হুমায়ুন আহমেদের যে স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্ন পূরণে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
 
ট্রাস্টের ব্যাপারে শাওন বলেন, ট্রাস্টের কাজের অগ্রগতি কিছুটা হয়েছে। সম্পন্ন হলে সবাইকে জানাব। আমার চেষ্টা থাকবে হুমায়ূন আহমেদের সব কিছু যেন একটা ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমি মনে করি, হুমায়ূন আহমেদ দেশের সবার এবং পরিবারের সবার। এ কাজটি একা আমার বা আমার ছোট ছোট দুটি সন্তানকে নিয়ে সম্ভব হবে না। পরিবারের লোকজন এবং হুমায়ূন আহমেদকে যারা ভালবাসেন সেসব শ্রদ্ধেয়জন নিয়ে যদি আমরা ট্রাস্ট গঠন করি তবে তা সহজ হয়ে ওঠবে।
 
তিনি আরো জানান, হুমায়ূন আহমেদ ও তার জিনিসপত্রগুলো এখানেই আছে। এগুলো একত্রিত করে একটি জাদুঘরটি করা করলে এখানে আসা তার ভক্তরা সেগুলো দেখতে পারবেন। চেষ্টা করব জন্মদিনের আগেই একটা সিদ্ধান্তে এসে অন্তত একটা অংশ শুরু করার।
 
এর আগে সকালে হুমায়ুন আহমেদের ছোটভাই ড. অধ্যাপক মো.জাফর ইকবাল ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব এবং তিন বোন সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদসহ তাদের সন্তান-সন্তুতিরা নুহাশপল্লীতে আসেন এবং কবর জিয়ারত করেন।
 
এদিকে সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত ভক্ত নুহাশপল্লীতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। তাদের অনেকেই প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দেন এবং নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।