তুরস্কে গত সপ্তাহে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, পুলিশ, বিচারক, শিক্ষক, সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের গ্রেফতার, বহিষ্কার ও চাকরিচ্যুতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের প্রতি যথেষ্ট অনুগত নয়— এমন সন্দেহে গ্রেফতার ও বরখাস্ত করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার তুরস্কের শিক্ষা বিভাগের ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়। এর পাশাপাশি বরখাস্ত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আট হাজার সাতশ ৭৭, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক হাজার পাঁচশ এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দুইশ’ ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। আরও বরখাস্ত করা হয়েছে শতাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকেও। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় হাজারেও বেশি শিক্ষককে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বরখাস্ত হওয়ার তালিকায় রয়েছে ৩০ জন স্থানীয় গভর্নর ও কমপক্ষে ৫৭ জন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তাও। এর আগে অভ্যুত্থান চেষ্টার পরদিনই চাকরিচ্যুত হয়েছেন তিন হাজার বিচারক ও নয় হাজার পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয় হাজারেরও বেশি সেনাসদস্যকে। এসব বিদ্রোহী সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালেরও উদ্যোগ নিয়েছে তুর্কি সরকার।
শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার বা বরখাস্ত নয়, সরকারের রোষানলে পড়েছে দেশটির সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমগুলোও। মঙ্গলবার ২৪টি রেডিও ও টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স বাতিল করেছে তুরস্কের মিডিয়া রেগুলেশন বডি। এছাড়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ২০টির বেশি ওয়েবসাইট। বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া গেছে। তুর্কি কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রেফতার ও ছাঁটাইকৃতরা তুরস্কের নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনের অনুসারী।
তুরস্কের ওই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর অনেক বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এটাকে ভিন্নমত দমনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবেন এরদোয়ান। সেই আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করেই গ্রেফতার ও বরখাস্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় তুর্কি সরকারের প্রতি আইনের শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন না করার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে একদল সেনাসদস্য সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালায়। এরকম অবস্থায় এরদোয়ানের ডাকে সাড়া দিয়ে তার সমর্থকরা রাজপথে নেমে আসে। এসময় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ২৩২ জন নিহত এবং আরো ১৫৪১ জন আহত হয়। শেষ পর্যন্ত ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়ে যায়। বিবিসি ও রয়টার্স