ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, গুলশানে আর্টিজান বেকারি রেস্টুরেন্টে নিহত জঙ্গিদের লাশ নিজেদের সন্তানের দাবি করে তা যদি কেউ নিতে চায়, সে ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদেরও ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। কারণ সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়েই লাশ হস্তান্তর করতে চায় পুলিশ।
বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। তবে এ পর্যন্ত এই জঙ্গিদের মরদেহ নিতে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেননি নিহত পাঁচ জঙ্গির লাশ বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) মর্গে রয়েছে। তারা হলেন- ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, স্কলাসটিকার সাবেক ছাত্র মীর সামিহ মোবাশ্বের, মালয়েশিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিবরাস ইসলাম, বগুড়ার বিগিগ্রাম ডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদরাসার সাবেক ছাত্র খায়রুল ইসলাম পায়েল, বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজের ছাত্র শফিকুল ইসলাম উজ্জল। এছাড়া হলি আর্টিজানের কর্মচারি বলে পরিচিত সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের লাশও সিএমএইচে রয়েছে।
উপ-কমিশনার বলেন, যদি কোনো পরিবার তাদের সন্তানদের নিতে যোগাযোগ না করে, সে ক্ষেত্রে ডেডবডিগুলো আরো কিছুদিন সিএমএইচে রাখা হবে। তবে কতদির রাখা হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলাকারীরা নেশা জাতীয় কোনো ওষুধ সেবন করেছিলেন কি না তা নিশ্চিত হতে নিহতদের রক্ত ও চুলের নমুনা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সিএমএইচে যায়।
নমুনা সংগ্রহে যাওয়া প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজর ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, গুলশানে নিহত ৬ জঙ্গির রক্ত ও চুলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রক্ত ও চুলের নমুনা সংগ্রহের জন্য বেশকিছু শর্তও দেয়া হয়েছে। শর্তের মধ্যে রয়েছে- নিহত প্রত্যেকের হার্টের কাছাকাছি থেকে ১০ মিলিলিটার, হাত-পা থেকে ১০ মিলি লিটার রক্ত নিতে হবে। এছাড়া মাথার সামনে থেকে ১০টি, পেছনে থেকে ১০টি, মাথার ডান ও বাম পাশ থেকে ১০টি করে চুল সংগ্রহ করতে হবে।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা নিহতদের বিভিন্ন রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রাসায়নিক পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। যে পরীক্ষাগুলো দেশে করানো সম্ভব, সেগুলো আমরা দেশেই করবো। আর যেগুলো দেশে করার ব্যবস্থা নেই সেগুলোর জন্য এফবিআই’র ল্যাবে আলামত পাঠানো হবে।
উল্লেখ, গত ১ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে অভিযানের সময় যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় এ পাঁচ জঙ্গি। ওইদিন দুপুরের পর তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত প্রত্যেক জঙ্গির বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেলেও তাদের কোনো স্বজনই মরদেহ নিতে সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করনি।