বিতর্কিত বক্তা জাকির নায়েকের ‘পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধের পর বাংলাদেশের ১৪টি পিস স্কুল এন্ড কলেজ আলোচনায় এসেছে।
সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ওইসব স্কুলের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। তাই নগরীতে অবস্থিত একটি পিস স্কুল এন্ড কলেজ রাতারাতি নাম পরিবর্তন করেছে। ‘পিস স্কুল এন্ড কলেজের জায়গায় এখন ‘লিজেন্ড একাডেমির সাইনবোর্ড উঠানো হয়েছে।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে সাটানো পিস স্কুলের সাইনবোর্ডও রাতের আধারে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ওই সাইনবোর্ডের জায়গায় ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে লিজেন্ড একাডেমির ডিজিটাল ব্যানার।
বুধবার সকালে নগরীর তেরখাদিয়ার গাজী ভবনের পিস স্কুল এন্ড কলেজের মূল সাইনবোর্ডের উপরে ‘লিজেন্ড একাডেমির ডিজিটাল ব্যানার দেখা যায়। এছাড়া শিশু শিক্ষার্থী বহনের ভ্যান গাড়িতে লেখা পিস স্কুল এন্ড কলেজের নামও মুছে ফেলা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র, ব্যাগ, ক্যালেন্ডার, খাতাপত্র এবং স্কুল ড্রেসের উপর এখনও রয়েছে পিস স্কুলের নাম।
বুধবার সকালে স্কুলটির একাডেমিক ভবনে গিয়ে অধ্যক্ষ আলাউদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। স্কুলে হিসাবরক্ষক সাইফুল হক ও সহকারী হিসাবরক্ষক আবদুল আলীমকে পাওয়া যায়। স্কুলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলটির একজন শিক্ষক বলেছেন, অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন ও নির্বাহী পরিচালক তৌফিকুর রহমান কয়েকদিন থেকে স্কুলে আসছেন না। তার মোবাইলও বন্ধ রয়েছে।
একই ভবনে অবস্থিত গ্যালাক্সি মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের পরিচালক সাজেদুর রহমান খোকন বলেন, ওই স্কুলটি পরিচালনা করেন জামায়াতের কিছু লোক। ইসলামী ব্যাংক রাজশাহী শাখার কর্মকর্তা মোর্শেদ জামান স্কুলের সার্বিক কর্মকাণ্ড দেখভাল করেন। অধ্যক্ষ আলাউদ্দিনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তিনিও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। স্কুলের নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমানও জামায়াতের রাজনীতির করেন।
রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, জামায়াতের কিছু লোকজন পিস স্কুল এন্ড কলেজের সঙ্গে জড়িত। তারাই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করেন। এখন পিস স্কুল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার কারণে সরকারের নজর এড়াতে কৌশল করে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।