প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গুলশান ও শোলাকিয়ার কাপুরুষোচিত-অমানবিক হামলার ঘটনা ছিল কল্পনাতীত। যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না এবং স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না- তারাই এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে। শুধু হামলাকারী জঙ্গি-সন্ত্রাসী নয়, পর্দার আড়ালে থেকে কারা পরিকল্পনা করছে, মদদ দিচ্ছে, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিচ্ছে, সে দেশি-বিদেশি যেই-ই হোক না কেন সবাইকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমর্থন থাকায় তাদের সবাইকে খুঁজে বের করা কঠিন হবে না, তা শুধু সময়ের ব্যাপার। সবাইকে ধরে আমরা অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারবো, ইনশাল্লাহ।
গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর সম্পুরক এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হামলার পর বিদেশি রাষ্ট্রের প্রত্যেকে নিন্দা জানিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের পাশে আছে, এসব সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস তারা দিয়েছেন। গুলশানে আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্দেহজনক হামলাকারীদের সনাক্ত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হামলাকারী বেশ কয়েকজন মারা গেছে। কয়েকজন সন্দেহভাজনের ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যে সনাক্তও করা হয়েছে। বাকিদের সনাক্ত করতে সবার সহযোগিতা চাই। কেউ সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে পারলে সঙ্গে-সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে অবহিত করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
একই প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বমন্দার মধ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলা করে আমরা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সারাবিশ্বের সামনে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসযজ্ঞ ও শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় বাংলাদেশকে প্রশ্নের মুখোমুখি পড়তে হয়। ওইসব ঘটনা দ্রুত মোকাবেলা করে সুশাসনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি যখন উজ্জ্বল করেছি, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যখন আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে- তখন এই হামলার ঘটনা ঘটলো। মেট্টোরেলের জাপানি পরামর্শক, ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করেন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী একজন ইটালীর নাগরিকসহ বেশ ক’জন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলো। তবে জড়িতরা কেউ রেহাই পাবে না।
২০১৭ সালেই মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট
সরকারি দলের সদস্য মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আশা করা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণ করা সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সফলভাবে উেক্ষপিত হলে নির্দিষ্ট অরবিটার স্লট ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে পৌঁছতে প্রায় ২ সপ্তাহের মত সময় লাগবে। সফল উেক্ষপণের পর স্যাটেলাইটের ইন-অরবিট টেস্ট সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৩ মাস সময় লাগবে। সম্পূর্ণ টেস্টিং মিশন শেষে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস নাগাদ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম করতে পারবে বলে আশা করা যায়। তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে উেক্ষপণের পর পর্যায়ক্রমে বঙ্গবন্ধু-২ ও বঙ্গবন্ধু-৩ নামক আরও ২টি স্যাটেলাইট মহাকাশে প্রেরণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এতে বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ প্রদেয় বার্ষিক প্রায় ১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয়সহ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ সেতু হবে
জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক, যুগোপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও নির্ভরযোগ্য যাত্রী সেবামূলক গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে যাচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ২৩৫ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করেছে। তবে বিভিন্ন সেকশনে নতুন ট্রেন চালু করার একটি বড় বাধা হলো ডাবল লাইন না থাকা। এ সমস্যা সমাধানে আমরা পর্যায়ক্রমে সকল গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে সেকশনকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি জানান, যমুনা নদীর উপর বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্রাক সম্পন্ন একটি রেল সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি ডিপিপি প্রণয়ণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে জাইকার সঙ্গে ঋণচূক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা হতে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের লক্ষ্যে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প’ একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া পায়রা বন্দরকেও রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।