সিরিজে সমতা আনার লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার দ্বতীয় টেস্টে মাঠে নামবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। অন্যদিকে জয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে নামবে সফরকারী পাকিস্তান। প্রথম টেস্ট জিতে চার ম্যাচের সিরিজে ইতোমধ্যেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে উপমহাদেশের দলটি।
পাকিস্তানি লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহর ১০ উইকেট শিকারের সুবাদে গত সপ্তাহে লর্ডসের প্রথম টেস্টে চার দিনের মধ্যেই ৭৫ রানে পরাজিত হয়েছে এলিস্টার কুকের দল।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ম্যাচের পিচ আরো বেশি টার্ন করবে ধারণা করা হলেও ইংল্যান্ড শাহকে আরো ভালভাবে মোকাবেলা করার আশা করছে।
মঈন আলীর পরিবর্তে কিংবা তার সাহায্যার্থে নিজ মাঠে লেগ স্পিনার আদিল রশিদের অভিষেক ঘটানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে স্বাগতিকদের। মূলত পাকিস্তানি স্পিনার শাহর কাছে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা যেন ছিলেন অসহায়।
তাই তাকে (শাহ) সামল দিতে এবার পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার সাকলাইন মুশতাকের দ্বারস্থ হচ্ছে ইংল্যান্ড। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংলিশ দলের পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন সাকলাইন।
কেবলমাত্র পাকিস্তানি স্পিন মোকাবেলা নয়, একই সঙ্গে আলী ও রশিদের জন্য সাকলাইনকে কাজে লাগাতে চায় স্বাগতিকরা। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নিয়োগ দিলেও পাকিস্তানি সাবেক এ তারকার কাছ থেকে দলের স্পিনাররা উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন ইংলিশ কর্তৃপক্ষ।
এক সময় ইংল্যান্ড দলের বিশেষজ্ঞ স্পিন কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন পাকিস্তানের মুশতাক আহমেদ। তবে ২০১৪ সালে তিনি নিজ দেশে ফেরার পর থেকে ইংলিশরা রয়েছে স্পিন কোচ বিহীন।
১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করলেও এ ম্যাচে দুই স্পিনার নিয়ে খেলতে পারে ইংল্যান্ড। এ ম্যাচেই মাঠে নামতে পারে ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী পেসার জেমস এন্ডারসন এবং অললাউন্ডার বেন স্টোকস। ইনজুরির কারণে উভয়েই প্রথম টেস্ট খেলতে হননি।
লর্ডস টেস্টের আগেই ফিট হওয়ায় অধিনায়ক কুক ও কোচ ট্রেভর বেলিস চেয়েছিলেন এন্ডারসনকে মাঠে নামাতে। কিন্তু নির্বাচকরা রাজি হননি।
পক্ষান্তরে ২০০১ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের ১০৮ রানে জয় পাওয়া ম্যাচে ৭৪ রানে ৪ উইকেট শিকার করা স্টোকস অপেক্ষায় আছেন সাকলাইনের সঙ্গে কাজ করার।
বেন স্টোকস বলেন ‘সৌভাগ্যক্রমে আপনার দলের ভিতরে বাইরে অনেক লোক আছেন তাদের অভিজ্ঞতা আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। তার মেধা থেকে ব্যাটসম্যানরা যদি কিছু শিখতে না চায় তবে সেটা হবে খুবই হাস্যকর ব্যপার। তার মেধাকে কাজে লাগাতে হবে এবং তার বিপক্ষে ব্যাটসম্যানরা কিভাবে সফল হতেন সেটা জানতে চাইতে হবে।’
সুতরাং লর্ডসে কতিপয় ব্যাটসম্যান নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিলেও ইংল্যান্ড ‘ইতিবাচক’ ক্রিকেট খেলতে চায়।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা অতিকতর শুদ্ধভাবে খেলবে বলেও ইঙ্গিত দেন স্টোকস। তিনি বলেন, ‘ওল্ড ট্রাফোর্ড স্পিন সহায়ক হিসেবে পরিচিত এবং অবশ্যই এটা শাহর জন্য সহায়ক হবে। অতএব অবশ্যই আমাদের চিন্তার পরিবর্তন করতে হবে। কিভাবে বড় স্কোর গড়া যায় সে জন্য বড় পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে এবং উইকেট বিলিয়ে দেয়া যাবে না।’
পাকিস্তান অপরিবর্তিত দল নিয়ে মাঠে নামলে টপ অর্ডারে জেমস ভিন্সকে নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকবে ইংল্যান্ড। যদিও লর্ডসে পাকিস্তানি দুই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ ও শান মাসুদ উভয়েই ব্যর্থ হয়েছেন। সুতরাং দ্বিতীয় ম্যাচে তারা নিজেদেরকে প্রমাণে সচেষ্ট থাকবেন।
২০১০ সালে লর্ডসে স্পট ফিক্সিংয়ের পর আবার সেই ভেন্যুতেই টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা পেসার মোহাম্মদ আমিরই ছিলেন গত সপ্তাহে সকল আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। সমর্থকদের কাছ থেকে বৈষম্যমুলক আচরণের আশাও করছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটেনি।
পাকিস্তান অধিনায়ক ৪২ বছর বয়সী মিসবাহ-উল-হক লর্ডস সেঞ্চুরিকে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা শতক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়কের উদযাপন নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে।
তবে পুরো ক্রিকেটে সমস্ত নজর কেড়েছে শাহর নৈপুণ্য এবং ইংল্যান্ডের সমস্যা দেখে মোটেই বিস্মিত ছিলেন না পাকিস্তান ফিল্ডিং কোচ স্টিভ রিক্সন।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বিশ্বের সকল দেশই রিস্ট স্পিনারদের খুব বেশি খেলায় না।’