বানারীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে নবীন নামে এক কিশোর অটোভ্যানচালককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। একই অভিযোগে কামরুল ও মহিম নামের অপর দুই কিশোরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
জানা গেছে ১৬ জুলাই বিকেলে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের আউয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির তিন ছাত্রী ছুটির পর বাড়ি ফিরছিল। এ সময় আউয়ার গ্রামের অটোভ্যানচালক নবীন, তার বন্ধু কামরুল ও মহিম তাদের ইভটিজিং করে। এ সময় মহিম এক ছাত্রীর হাত ধরে টান দেয়। বিষয়টি ওই তিন শিক্ষার্থী তাদের পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারের নামে নবীন, কামরুল ও মহিমকে স্কুলে ডেকে আনা হয়। এ সময় কামরুলের কাছ থেকে ১০ হাজার ও মহিমের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের তাদের বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দেয়া হয়।
IMG0
নবীনের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার পর তাকে বিদ্যালয় মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে লাঠি দিয়ে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে নবীনের বৃদ্ধা দাদী রহিমা বেগম ও চাচা নজরুল হাওলাদারকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।নবীনকে ছেড়ে দিতে নির্যাতকদের পা জড়িয়ে ধরে কাকুতি মিনতি করলেও তাদের মন গলেনি। শত শত লোকের সামনে তাকে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়। এদের মধ্যে উপস্থিত এক যুবক নবীনকে নির্যাতনের ওই দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করে রাখেন।
রবিবার বানারীপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি রাহাদ সুমন ও সহ-সভাপতি সুজন মোল্লা খবর পেয়ে নির্যাতিত নবীনের বাড়িতে গেলে ওই যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিডিও ফুটেজ তুলে দেন।
IMG1
এদিকে অচেতন অবস্থায় ওই দিন বিকেলে নবীনকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু অর্থাভাবে বরিশালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়ে রবিবার নবীনকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
নবীনের বাবা ঢাকার ঠেলাগাড়ি চালক ফারুক হাওলাদার বলেন, নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারছি না।’
এদিকে অপরাধ করে থাকলে ওই কিশোরদের আইনের হাতে তুলে না দিয়ে কেন নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শালিসদাররা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।