৪৫ বছরেও সরকারিকরণ হয়নি ‘বিলচলন বঙ্গবন্ধু বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়’

প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ‘বিলচলন বঙ্গবন্ধু বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারিকরণ হয়নি। অথচ বিদ্যালয়টি দুইবার (১৯৯৫-৯৮) উপজেলা পর্যায়ের সেরা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি অর্জন করেছে। প্রতিনিয়তই খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
 
বিলপাড়ের নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সীমান্ত কুন্দইল গ্রামে বিদ্যালয়টির অবস্থান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি আনুগত্য ও সম্মান জানিয়ে একদল মুক্তিকামী মানুষ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ৪৫০ জন।
 
সম্প্রতি বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের দাবি তুলেছে শিক্ষক-কর্মচারীসহ এলাকার মানুষ। এরই মধ্যে দাবি সংবলিত একটি আবেদন প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসেন।
 
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নামে জমি রয়েছে ৪০৯ শতক। এর মধ্যে ১২৮ শতক জায়গা জুড়ে মাঠ আর ভবন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তারা নয় হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেছেন। ৩০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন।
 
শিক্ষকদের ভাষ্য মতে, গ্রামের বিদ্যালয় হলেও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম, আধুনিক বিজ্ঞানাগারসহ আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের বিদ্যায়লটি সরকারিকরণ করা হলে গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা আরো এগিয়ে যাবে।
 
স্থানীয় সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল বাকী বলেন, ‘বিদ্যালয়টি ইউনিয়ন সদরে (কুন্দইল) হলেও পড়ালেখা, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড উপজেলা সদরের প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভালো। গ্রামের মানুষ একযোগে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের জন্য বিভিন্ন দফতরে আবেদন দিয়ে চেষ্টা তদবির চালাচ্ছেন।’
 
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘গ্রামের বিদ্যালয় হলেও পরিচালনা কমিটির কঠোর নজরদারি আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখার পাশাপাশি ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক ও বিতর্কমূলক কর্মকাণ্ড নিয়মিত রয়েছে। এ কারণে দুইবার উপজেলা পর্যায়ে সেরা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হলে গ্রামের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।’
 
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘এলাকার মানুষ শ্রমজীবী। বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হলে উন্নত পরিবেশে শিক্ষার্থীরা আদর্শ নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারবে।’
 
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি গ্রামে হলেও পড়ালেখা, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারিকরণের দাবি সংবলিত আবেদনও তারা দিয়েছেন।’