আমেরিকানরা নৈরাশ্যবাদী নয়, অত্যন্ত আশাবাদী: ওবামা

হ্যালো আমেরিকা
১২ বছর আগে এমনই এক রাতে, আমি প্রথমবারের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছিলাম। সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছিলাম।
 
সেদিন আপনারা আমার দুই মেয়ে মালিয়া ও শাসাকে দেখেছিলেন। আজ তারা চমত্কার দুজন নারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তারা আমাকে পরিপূর্ণ করেছে। আপনারা আমার স্ত্রী মিশেলকে দেখেছেন। যার বদৌলতে আজ আমি একজন ভালো বাবা এবং ভালো মানুষ হতে পেরেছি। যে তার কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতিকে আন্দোলিত ও উত্সাহিত করেছেন। কিন্তু আজও সে আগের মতোই আছে। 
 
কিন্তু আমি, আমার ক্ষেত্রে এমনটি বলা যাবে না। আমার মেয়েরা সবসময়ই বলে, দারুণ, বাবা তুমি অনেক পরিবর্তিত হয়েছ। এবং এটা সত্য- প্রথমবার বোস্টনে ভাষণকালে আমি খুব অল্প বয়সী ছিলাম। এত জনতার মধ্যে ভাষণ দিতে হবে, হয়তো একারণেই কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল নিজের  প্রতি, আমেরিকার জনগণের প্রতি। যে আমেরিকা মহানুভব, বড় হূদয়ের, আশাবাদী আর যে আমার গল্পকে সৃষ্টি করেছে সত্যিকার অর্থেই।    
 
সময়ের স্রোতে বহু ঘটনার অবতারনা হয়েছে।  আজ দেশ যখন যুদ্ধ, বর্ণবৈষম্য ও আরো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন আমেরিকার দুই মেয়াদে থাকা প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ রাতে আপনাদের সামনে আবারো হাজির হয়েছি। আজ এসেছি আমেরিকার আরো অনেক বেশি আশাবাদী ভবিষ্যতের গল্প বলতে।
 
ভাষণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, তিক্ত বর্ণবৈষম্যের ৮০ বছর আমরা পূর্ণ করে ফেলেছি, তবু যেন আজও দেশ সেই পথে ফিরে যেতে চায়। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতে লড়াই করেছি। আজ দেশের অর্থনৈতিক ঘাটতি কমেছে, অটো শিল্পে নতুন রেকর্ড গড়েছি, বেকারত্ব কমেছে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উত্পাদন দ্বিগুণ হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ওবামা কেয়ার চালু করেছি, যেটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়. আমাদের সৈন্যদের তাদের পরিবারে ফিরিয়ে এনেছি, জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছি। দক্ষ কূটনীতি দিয়ে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি, কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের নুতন দুয়ার খুলে দিয়েছি এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষায় জলবায়ু চুক্তির মধ্যদিয়ে ২শ জাতিকে একীভূত করতে পেরেছি। এসবই আমাদের অর্জন। ওবামা বলেন, ‘আমেরিকার এমন কয়েকটি ক্ষেত্র আছে যেখানে কারখানা বন্ধ করা থেকে ফিরে আসা যায়নি, কঠোর পরিশ্রম করে এবং পরিবারকে ভালো রেখে যারা গর্ববোধ করেন সেই সব মানুষের কথা আজ ভুলতে বসেছি।’
 
অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে আমদের সরকার। আমাদের দেশ আগের চেয়ে আজ অনেক শক্তিশালী এবং আরো বেশি সমৃদ্ধশীল দেশের রূপ পরিগ্রহ করেছে। তবে প্রত্যেকটি জয় এবং পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আমি এটাই বলতে চাই, পরিবর্তন কখনো সহজে আসে না এবং দ্রুত করা সম্ভব নয়। একটি মেয়াদ, একটি প্রেসিডেন্সি, এমনকি এক জীবনেও করাটা খুব মুশকিল। তাই আজ আমি আপনাদেরকে জানাতে এসেছি, প্রকৃতপক্ষে আমেরিকাবাসীর জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। একটি মর্যাদাপূর্ণ অবসর ভাতা প্রদান করা, শিশুদের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি বা বিশ্বমানের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, আমাদের চলার পথকে সুগম ও মাতৃভূমিকে নিরাপদ এবং এই ধরাকে শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে আমদের পরবর্তী প্রজন্মের খাতিরেই।
 
আর নভেম্বরে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট বাছাইয়ের মধ্যেই এই কাজগুলি নিহিত। সত্যি কথা বলতে কী, এটা কোন টিপিক্যাল নির্বাচন নয়। নয় কোন দলীয় বা নীতিগত পছন্দের নির্বাচন। এমনকি বামপন্থী বা ডানপন্থীদের নির্বাচনও নয়। আমাদের ভাবার সময় এসেছে কার কাছে বাস্তবিক অর্থেই আমরা ভালো থাকব। দেখুন, ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকানদের মাঝে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই। আমেরকিয়ায় সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের বসবাস। আমি জানি, এখানে একজনই প্রার্থী রয়েছেন, যে ভবিষ্যতে আস্থা রাখেন এবং নিজের জীবনকে সে পথেই উত্সর্গ করেছেন। যে শিশুদের সমৃদ্ধির জন্য সহায়ক এবং যে জানে পরিকল্পনা নিয়ে কীভাবে সকল বাধা উপড়ে ফেলতে হয়। সে আর কেউ নন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিলারি ক্লিনটন।
 
আবেগ উস্কে দেওয়া এই ভাষণে ওবামা বলেন, ‘কখনোই কোনো পুরুষ বা নারী প্রার্থী এত যোগ্য ছিলেন না, আমিও না, বিলও (ক্লিনটন) না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালনের জন্য হিলারির চেয়ে বেশি যোগ্য কেউ নেই। হিলারিকে একজন যোগ্য যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত চারটি বছর আমি সামনের সারিতে তার সকল বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ দেখেছি। তার বিচার বিশ্লেষণ, তার নিয়ম-নিষ্ঠা দেখেছি। আমি বুঝতে পেরেছি কাজের ক্ষেত্রে তার নীতি-নৈতিকতা স্রেফ মনযোগ আকর্ষণ কিংবা প্রশংসা কুড়ানোর জন্যই ছিলো না। নৈতিকতার পক্ষে যথার্থই একজন  যোদ্ধা তিনি। এখনো হিলারির মধ্যে আমি সেই উদ্যম দেখি, তারুণ্যে তিনি যেমন করে শিশুদের সুরক্ষা তহবিল সংগ্রহের জন্য দরজায় দরজায় ঘুরে বেড়াতেন, কেবলই প্রতিবন্ধি শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। ফার্স্টলেডি হিসেবে আমরা যেমন তাকে দেখেছি শিশুদের স্বাস্থ্য বীমা কর্মসূচির জন্য কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে, তিনি এখনও তেমনই। তার সেই কর্মসূচি আজ লাখ লাখ শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। হিলারি সন্তানের মা হিসেবে যেভাবে সন্তানকে আগলে রেখেছেন ঠিক তেমনি তিনি আমেরিকাকেও রেখেছেন। সব মিলে আমি বলতে পারি হিলারিই হবেন আগামীর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।’
 
ওবামা বলেন, একজন মানুষ দেশের জন্য কি করবেন তার ওপর নির্ভর করে না আমেরিকানরা। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করায় বিশ্বাসী তারা। বাধা-বিঘ্ন হতাশা অতিক্রম করে একসাথে এগিয়ে যাওয়ায় বিশ্বাসী এদেশের মানুষ। হিলারি এবিষযটি বোঝেন। এটি একটি বিশাল এবং বহু মত ও পথের দেশ। কোন বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তকে একশত ভাগ সঠিক জানলেও আমাদেরকে কাজ করতে গেলে বিরুদ্ধ মতের সাথে সমঝোতা করতে হয়। ক্রমাগতভাবে একজন অন্যজনকে পরাস্ত করতে চাইলে গণতন্ত্র কাজ করতে পারে না। হিলারি জানেন প্রগতির জন্য একে অপরের কথা শুনতে হয়। 
 
আফ্রিকান আমেরিকান একটি পরিবার তাদের সন্তানটি যখন বাড়ি থেকে বের হয় তখন যেমন উদ্বেগ উত্কণ্ঠায় ভোগে তেমনি কোন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ যখন কাজে বের হয় তখন তার পিতা মাতাও একই রকম উত্কণ্ঠায় থাকেন। এই ব্যাপারটি অনুধাবন করেন হিলারি। তিনি জানেন জাতিগত ঐক্যের বাধাগুলো চিহ্নিত করা  প্রয়োজন।
 
 হিলারি বোঝেন সুশৃংখলভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাসন প্রক্রিয়া সচল রাখতে হবে। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র এসেছিল একই কারণে এখনও অভিবাসীরা আসছে। তারা কাজ করতে চায়, জ্ঞান আহরণ করতে চায়, উন্নততর জীবন চায়। তারা এমন একটি জায়গায় বাস করতে চায় যেখানে ভালোবাসা যাবে, যেখানে প্রার্থণা করা যাবে। হিলারি জানেন তাদের স্বপ্ন আমেরিকান হওয়া এবং সেই স্বপ্নকে বাঁধ দিয়ে আটকানো যায় না।      
 
ওবামা বলেন, ‘আজ রাতে, আমি আপনাদের বলছি, হিলারি ক্লিনটনের জন্য তাই করুন, যা আপনারা আমার জন্য করেছিলেন। আমি আপনাদের বলছি, আপনারা আমাকে যেভাবে তুলে ধরেছিলেন সেভাবে তাকেও তুলে ধরুন। প্রিয় দেশবাসী আট বছর আগে আমাকে আপনারা যেভাবে নির্বাচিত করেছিলেন ঠিক একইভাবে সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত হিলারিকে নির্বাচিত করে আমেরিকার জয়যাত্রা অব্যাহত রাখুন।’
 
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এমন কাউকে খোঁজেন যিনি অর্থনৈতিক অগ্রগতি চান, সকলের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে চান, আপনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে চান তাহলে এই দুই জনের মধ্যে ফারাকটা অনেক বড়। আপনি যদি এমন কাউকে খোঁজেন যিনি সারাজীবন মজুরি বাড়ানোর লড়াইয়ে সামিল ছিলেন, আরও বেশি সেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন, ন্যয্য ট্যাক্সের কথা বলেছেন, শ্রমিকের পক্ষে ছিলেন উচ্চ কণ্ঠ, নিয়ম নিষ্ঠায় ছিলেন কঠোর, ওয়ালস্ট্রিটের ওপর নিয়ন্ত্রনে ছিলেন সোচ্চার, তাহলে আপনাকে হিলারি ক্লিনটনকেই ভোট দিতে হবে, বলেন ওবামা।’
 
তিনি বলেন, ‘এই বিপজ্জনক বিশ্বে কে আপনাকে আপনার পরিবারকে নিরাপদ রাখতে পারবে, তাহলেও কিন্তু পছন্দ করে নেওয়া সহজ। হিলারি ক্লিনটন গোটা বিশ্বের বড় বড় নেতারা সম্মান করেন তার সেই যোগ্যতার জন্যই। গোয়েন্দাদের সঙ্গে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা যেমন রয়েছে, কূটনীতিকদের সঙ্গে, সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও রয়েছে তার কাজের অভিজ্ঞতা। আর সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষাপটে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করার ধৈর্য্য ও অভিজ্ঞতা দুই-ই তার রয়েছে।’
 
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের বিষয়ে আমি আগের চেয়েও বেশি আশাবাদী।’ ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের শ্লোগান ও প্রতিশ্রুতি ‘আমেরিকাকে আবার মহান করুন’ এর প্রতি ইঙ্গিত করে ওবামা বলেন, ‘আমেরিকা মহান হয়েই আছে। আমেরিকা ইতিমধ্যে যথেষ্ট শক্তিশালী। আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের শক্তি, আমাদের মহানুভবতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীল নয়।’ ওবামা বলেন, ‘আমেরিকার প্রতিশ্রুতি কোনও প্রাইস ট্যাগ নয়। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই এগোই। আমাদের ক্ষমতা কোনও স্বঘোষিত উদ্ধারকর্তার হাতে থাকে না। যে একাই নির্দেশ দিয়ে যাবে। আমরা কোনও শাসক চাই না। আর আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের শক্তি, আমাদের মাহত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করে না।’
 
রিপাবলিকানদের কোনও অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্র নীতিমালা নেই বলে সমালোচনা করেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে কনভেনশনে ট্রাম্পকে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সেখানে সমস্যা সমাধান নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। সেখানে কেবল দোষারোপ, অসন্তোষ, ক্ষোভ ও বিদ্বেষের ছড়াছড়ি ছিল’। ট্রাম্পকে ভরসা না করার আহবান জানিয়ে ওবামা বলেন, ‘যে লোক জীবনের ৭০ বছর ধরে শ্রমিক শ্রেণির মানুষের দিকে দৃষ্টিপাত করেননি, তিনি হঠাত্ করে আপনাদের চ্যাম্পিয়ন হবেন, কণ্ঠস্বর হবেন, তা কি বিশ্বাস করা যায়? যদি আপনাদের তাই মনে হয় তাহলে তাকে ভোট দিন। কিন্তু আপনাদের কেউ যদি মনে করেন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দরকার, সবার জন্য আরও অনেক সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার, তবে বলবো তাকে (ট্রাম্পকে) কখনওই বেছে নেবেন না। আসলে তার কোনও পরিকল্পনাই নেই, আর তার কোনও কথা সত্যও নয়। ’
 
ওবামা বলেন, ‘ডোনান্ড ট্রাম্পকে একজন ব্যবসায়ী বলতে তার কোনও আপত্তি নেই। এটা সত্য যে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। কিন্তু আমাকে বলতেই হচ্ছে, শ্রমিকের মজুরি না দিয়ে, আর মানুষকে প্রতারণা না করেই বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, একজন সফল ব্যবসায়ী মানে সফল রাষ্ট্র নায়ক হবেন এটা ভাবা ঠিক নয়। ব্যবসায় যে কোন সফল নারী বা পুরুষ সফল রাষ্ট্র নায়ক হবেন, সেটা আমেরিকার জনগণ ভাববে বলেও আমি মনে করতে পারি না। সুতরাং আমি এখানে দাঁড়িয়ে বলছি ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি যোগ্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এবং তার হাতেই নিরাপদ হবে আমেরিকা।
 
গত আট বছর এক দারুণ সময় অতিক্রম করেছি আমরা।  এখন আমি আমার পূর্বে জায়গায় ফিরে যাচ্ছি এবং একজন নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছি। আসুন ভয়ভীতি উপেক্ষা করে হিলারিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করি। বিশ্বকে দেখিয়ে দেই আমরা আমাদের জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক।
 

ধন্যবাদ, যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গল হোক।