জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ত্রাণের জন্য হাহাকার

 
 
জামালপুরে যমুনা ও ব্রক্ষপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত। গত ২৯ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত যমুনার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৫ সেঃ মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১শ ২২ সেঃ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে ইসলামপুর-দেওয়ানগঞ্জ এবং ইসলামপুর-দুরমুঠ রেলওয়ে ষ্ট্রেশনের মাঝে রেল লাইন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর মহাসড়কে বেশ ক’স্থানে পানি উঠছে। যে কোন মুহুর্তে ট্রেন ও সড়ক পথের  চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।  জেলার ৬৮ইউনিয়নের মধ্যে এ যাবত প্রায় ৩৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়ছে। প্রতিটি বাড়িতে অথৈই পানি। ত্রানের জন্য চলছে সর্বত্রই হাহাকার। কোন লোকজন দেখলে অসহায়, অভাবী বন্যাত্ব মানুষ ছুটে এসে বলে আমাকে ত্রান দাও। তারা আঞ্চলিক ভাষায় বলেন”
’বাপু আমার নাইগ্যা নামডা লেইখা নেও, আংগরে ঘরে ধান চাইল সব আছে, বাড়ি ঘরে পানি,আন্দাবারি নাই। কাইল তনে কিছুই খাওন নাই। (বাবা আমার নাম লিখে নিন। আমাদের ঘরে ধান-চাল সব আছে। রান্না-বান্না করার সুযোগ নেই, দুদিন ধরে না খেয়ে আছি।
কথা গুলো বলছিলেন, ইসলাপুর চিনাডুলি ইউনিয়নের ষাট উর্ধ্ব আমেনা বেওয়া, মরিয়ম বেগম. কুলকান্দি এলাকার বাসিন্দা  আব্দুল লতিফ, মোবারক আলী, আশি বত্সর বয়সের বৃদ্ধা গোলেছাা বেওয়া ও ময়না বেগম।
অনেকের গোলায় ধান-চাল আছে। রান্না করার সুযোগ নেই, বাড়ি ঘরে অথৈই পানি। খেতে পারচ্ছে না না খেয়ে দিন অতিবাহিত করছে তারা। এজন্য বন্যার্তদের মাঝে চলছে ত্রানের জন্য হাহাকার। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির বিশেষ প্রয়োজন। সরকারী ত্রানের পাশাপাশি ব্যক্তি/বেসরকারী সাহার্য্য সংস্থার গুলোর এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন সুধী মহল। এদিকে ৭টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে অসংখ্য পুকুর ডুবে মাছ বেরিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে মত্স চাষী।  জেলার দেওয়ারগঞ্জ ও ইসলামপুর ,মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ি উপজেলার অধিকাংশ যমুনার দ্বীপ চর গুলোতে এখনো ত্রান পৌছেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগিরা। এদিকে জেলার প্রায় সাড়ে ৩ শতাধীক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। এ সকল এলাকা মানুষসহ গোবাদি পশু , গরু, ছাগল হাঁস, মরগি পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে বন্যা দুর্গত এলাকায় মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি গো খাদ্যে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।