ইরানে হিজাব বরণ করতে বাধ্য হওয়া নারীদের সমর্থনে পুরুষরাও হিজাব পরিধান করছেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পরে ইরানের তথাকথিত নৈতিক পুলিশরা হিজাব পরিধান করা বাধ্যতামূলক করেছে।
নারীরা হিজাব না পরলে বা হিজাব পরিধান করার পরেও চুল দেখা গেলে জরিমানা থেকে কারাবাস পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। সরকার অনুমোদিত বিলবোর্ডে বলা হয় যারা চুল ঢাকে না তারা উচ্ছন্নে গেছে এবং অসম্মানিত। যে নারীরা এই নির্দেশ মানে না তারা পুরুষদের থেকে অপ্রত্যাশিত যৌন আকর্ষণের সম্মুখীন হতে হবে। নারীরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে। মাথার চুল ফেলে দিয়ে হিজাব ছাড়া জনসম্মুখে উপস্থিত হচ্ছেন।
এখন পুরুষরাও তাদের স্ত্রী অথবা নারী আত্মীয়দের সমর্থনে হিজাব পরিধান করছেন। নিউইয়র্ক প্রবাসী ইরানি অ্যাক্টিভিস্ট মাসিহ আলিনেজাদের আহ্বানে পুরুষরা বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে এই অভিনব আন্দোলন শুরু করেছেন। মাসিহ আলিনেজাদের স্টিলথি ফ্রিডম নামের ফেসবুক পেজে বেশ কয়েকটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে একজন নিজের চাচাতো বোনদের সঙ্গে ছবি তুলে পাঠানো ছবির ক্যাপশনে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আমার মনে হয় ওই ব্যক্তির স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা উচিত না যে অন্যদের স্বাধীনতা হরণ করতে চায়। কর্তৃপক্ষের আচরণে মনে হয় হিজাবই আমাদের দেশের একমাত্র সমস্যা। যেন তারা কালো এক টুকরো কাপড় দিয়ে আমাদের সম্মোহন করে রেখেছে।
IMG0
মাসিহ আলিনেজাদ নামের এক ব্যক্তি নিজের মৃত মায়ের হিজাব পরিধান করে ছবি পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ইসলামিক বিপ্লবের পরে আমার মা হিজাব পরা শুরু করেন, কারণ তখন তা বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু তিনি কখনো হিজাবে বিশ্বাস করতেন না। গ্রীষ্মের তপ্ত গরমে তাকে হিজাব পরতে হয়েছে বাধ্য জয়ে। আমার মা চলে গেছে, কিন্তু তার পোশাক রয়ে গেছে। আমি কখনো কখনো তার পোশাক পরিধান করে মনে করার চেষ্টা করি ওই গরমের দিনগুলোর কথা যখন মা হিজাব পরে বাজার করে ফিরে আসতো, ফিরে আসার পরে তার কথা বলার শক্তি পর্যন্ত থাকতো না। ইন্ডিপেন্ডেন্ট।