আগৈলঝাড়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীরা

আগৈলঝাড়ায় কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নামকরা পরিবারগুলোর সন্তানেরা জড়িয়ে পরছে নানা অপরাধে। এসকল কিশোর অপরাধীর নাম পুলিশের খাতায় নেই।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলা সদরের আইসক্রিম ফ্যাক্টরির শ্রমিক গৈলা গ্রামের সোহেল মোল্লার সঙ্গে দেখা করতে আসেন তার ছোট ভাই সিয়াম মোল্লা। সিয়াম সদরের গার্লস স্কুলের ব্রিজের উপর বসে কথা বলার সময় ফুল্লশ্রী গ্রামের জালাল ফকিরের ছেলে আনন্দ ফকিরের নেতৃত্বে তার বন্ধু ফুল্লশ্রী গ্রামের প্রান্ত, নগড়বাড়ি গ্রামের আলতাফ খানের ছেলে বাশাল খান, একই গ্রামের রহিম ভাট্টির ছেলে হৃদয় ভাট্টি, তার অপর তিন বন্ধু সিয়ামকে জোর করে কলেজ মাঠে ধরে নিয়ে যায়। কলেজ মাঠে সিয়ামকে মারধর করে তার মোবাইল ও নগদ ৮শ টাকা হাতিয়ে নেয়। এসময় সিয়ামকে বাড়ি যাওয়ার জন্য ভাড়া বাবদ ১০ টাকা দেয় ওই কিশোর অপরাধীরা।

বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ শুরু হলে ওই রাতেই বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল দাস, গৈলা ইউপি সদস্য মশিউর রহমান, বাকাল সাবেক ইউপি সদস্য আসাদ খলিফাসহ ওই কিশোরদের অভিভাবকদের নিয়ে ফুল্লশ্রী ফকিরবাড়ি মসজিদে সালিশ বসেন। ওই সালিশ বৈঠকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় চারজনের প্রত্যেককে সিয়ামের মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া টাকার জন্য ৭শ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান বিপুল দাস। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সকলেই মাদকাশক্ত। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ায় ‘টক অফদ্যা টাউনে’ পরিণত হয় আলোচনায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মধ্যেই এরকম ঘটনা ঘটে আসছে। তবে যারা এসকল অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের অধিকাংশই স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। শিক্ষা জীবনের কথা চিন্তা করে মানবিক কারণে স্থানীয়ভাবে ঘটনা মীমাংসা হওয়ায় থানায় এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয় না। এ কারণে এ সকল কিশোর অপরাধীদের কোন তালিকাও নেই পুলিশের কাছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় মানবিক আচরণের সুযোগ নিয়ে দিন দিন কিশোর অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। 

আরো পড়ুন: মোহাম্মদ (স.) এর বাণী উদ্ধৃত করে ঐক্যের ডাক দিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অপরাধকে কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক না। কিশোর জীবনে অপরাধ করার পরেও মানবিক কারণে যারা ছাড় পায় তাদের অভিভাবকদের এটা বুঝে সন্তানদের দিকে নজর রাখা উচিত। কারণ ছোট ছোট অপরাধের মাধ্যমেই একদিন তার সন্তান বড় ধরনের অপরাধী হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় এক সন্তানের জন্য গোটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, বিষয়টি তাকে কেউ অবহিত করেনি। এ ব্যাপারে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।  

ইত্তেফাক/জেডএইচ