১৩ বছরেও আপিল শুনানির উদ্যোগ নেয়নি আসামি পক্ষ

স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

 
স্ত্রী হত্যার দায়ে মামলা হয়েছিলো ১৯৯৭ সালে। নিম্ন আদালত থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত মামলাটি নিষ্পত্তি হতে সময় লেগেছে ২০ বছর।
 
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলার একমাত্র আসামি সানু হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় দেন। আপিল শুনানির এক পর্যায়ে আদালত আসামি পক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ১৩ বছর ধরে মামলাটি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পড়ে আছে। এতদিনেও কেন শুনানির উদ্যোগ নেননি। আসামি পক্ষের আইনজীবী এ বিষয়ে কোন সুদত্তর দিতে পারেননি বলে জানান সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।
 
তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামি ১৮ বছর ধরে কনডেম সেলে রয়েছেন। আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় তাকে এখন সাধারণ সেলে নিয়ে রাখবে কারাকর্তৃপক্ষ। তবে আসামির স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে বলে জানান তিনি।
 
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ২ জুলাই সকাল ১১ টায় স্ত্রী শেফালি বেগম ওরফে কহিনুরকে (২৩) কুপিয়ে করেন স্বামী সানু হাওলাদার। যৌতুকের টাকা না দেয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা নূর খালেক বরগুনার আমতলী থানায় ওই বছরই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ১৯৯৮ সালের ২৪ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালত-২ আসামি সানু হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
 

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন ওই আসামি। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। ২০০২ সালের ১৯ জুন হাইকোর্ট নিন্ম আদালতের ফাঁসির রায় বহাল রাখে। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে আপিল করেন সানু। ১৩ বছর পর গতকাল ওই আপিলেল ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আপিল খারিজ করে দিয়ে তাকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।