নারীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে রকমারি চটের ব্যাগ এবং কার্ড। শপিং ব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার ব্যাগ, স্কুল ব্যাগ, ডল ব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ, লন্ড্রি ব্যাগ, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ, মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্টসসহ পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানের নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা। এতে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় করছে। তৈরি এসব পণ্য মানে ও গুণে বিদেশিদের কাছে চাহিদা থাকায় বাড়ছে চটের ব্যাগ ও হাতে তৈরি কার্ডের চাহিদা।
শহরের গোলাহাট এলাকার চিনি মসজিদ এলাকায় সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া নারী উদ্যোক্তাদের সঞ্চয়ের টাকায় ১৯৯১ সালে ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া বাসায় প্রথম শুরু করেন। নিজেদের ক্রয়কৃত ১৬ শতক জমির ওপর ৬ তলার ভিত্তি দিয়ে ৪ তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পুরোদমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। ১১০ জন নারী উদ্যোক্তা শ্রমিক ও ১৫ জন কর্মকর্তা নিরলসভাবে তৈরি করছেন চটের রকমারি ব্যাগ ও পাট দিয়ে হাতে বানানো কার্ড। এসব পণ্য আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে।
নারী শ্রমিক নাজমা বেগম জানান, আগে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকত। কিন্তু এখানে কাজ করার পর থেকে প্রতিমাসে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা আয় হয়। এই টাকায় বসতভিটায় পাকা বাড়ি তৈরি করেছেন। আর মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। সেই সাথে বড় মেয়েকে পাত্রস্থ করেছেন বলে জানান তিনি।
পাট পণ্য প্রদর্শনী’ ২০১৬ অংশ নিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসাবে ‘সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ’ জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) ও নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মাননা স্মারক লাভ করেছে। এখানে দিনহাজিরা ও কাজের ওপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। ফলে একজন নারী কাজ করে কম করে হলেও চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। আর বছর শেষে লাভের অংশ সকল নারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ, ডেমরার বিভিন্ন পাটকল থেকে উত্কৃষ্টমানের পাট ও চট সংগ্রহ করা হয়। তারপর মেশিনে কাটিংয়ের পর সেলাই করে তৈরি করা হয় উন্নতমানের এসব চটের ব্যাগ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী স্ক্রীন প্রিন্ট ও অন্যান্য কাজ করা হয়। ফলে এসব ব্যাগ খুবই টেকসই ও মজবুত হয়। এখানে পুরনো কাপড় থেকেও নারীরা ব্যাগ তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে প্রতিনিয়ত বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েই চলেছে।
সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজের জেনারেল ম্যানেজার বলেন, পারিশ্রমিক ও লাভের অংশ ভাগ বাটোয়ারার পর প্রতিবছর ৫/৬শ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলের ইউনিফর্ম বিতরণ করা হয়। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানটিতে ট্রেনিং সেন্টার খোলার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।