জিয়ানগরের গ্রামীণ জনপদে ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে

গ্রামীণ জনপদে সচরাচর নারীদের পরিবারের হাল ধরতে দেখা যায় না। তবে ক্রমশ পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জিয়ানগরে বাড়ছে ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা। জিয়ানগর, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন এই জনপদের নিত্যসঙ্গী। আর এই উপজেলার বলেশ্বর নদের তীরে চাড়াখালী গ্রামে বাস করেন ফাতেমা বেগম। জন্মই তার দুর্যোগকে সঙ্গী করে। বড় হতে না হতেই বাবার বসতঘরের জমিটুকু বিলীন হয়ে যায় নদীগর্ভে। অভাব অনটনের সংসারে পড়ালেখার সুযোগ হয়নি তার। অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থাতেই দুই সন্তানের জনকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের কিছুদিন না যেতেই স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। তারপরেই ফাতেমার কোল জুড়ে আসে সন্তান। নিজেই যখন না খেয়ে থাকতে হয় তখন শিশু সন্তান নিয়ে পড়েন বিপদে। বাধ্য হন দ্বিতীয় বিয়ে করতে। দিনমজুর জুয়েলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জুয়েলের একার আয়ে সংসার চলে না। এরই মাঝে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর। তার বসতঘরসহ সবকিছু ভেসে যায়। আরও অসহায় হয়ে পড়েন ফাতেমা। বাধ্য হয়ে বাড়ির সামনে চাড়াখালী খাদ্য গুদাম সড়কে চায়ের দোকান খুলে বসেন তিনি। এক্ষেত্রে একটি বেসরকারি সংস্থা অর্থ সহায়তা দিয়েছে তাকে। এখন প্রতিদিন দোকান থেকে তিন থেকে চারশ’ টাকা আয় হয় বলে জানান ফাতেমা। ফাতেমাকে অনুসরণ করে তার দোকানের খুব কাছাকাছি একই সড়কে আরও তিন নারী দোকান খুলে বসেছেন।  আবার ইন্দুরকানী গ্রামের দীলিপ বিশ্বাসের স্ত্রী দেবী রানীও বাড়ির সামনে মুদির দোকান করেছেন। একই দোকানে তিনি দর্জির কাজও করেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আনোয়ারা সোবাহান জানান, জিয়ানগরের প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে নারী দোকানীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তারা নিজ বাড়ির আশপাশেই ব্যবসা গড়ে তুলছেন।