হাসনাত ও তাহমিদ ৮ দিনের রিমান্ডে

 
গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক বেসরকারি নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিম ও কানাডা প্রবাসী যুবক তাহমিদ হাসিব খানকে আট দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুন্নাহার ইয়াসমিন তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 
এর আগে দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গুলশানের ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।’
 
মাসুদুর রহমান জানান, বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাহমিদকে এবং গুলশান আড়ংয়ের সামনে থেকে হাসনাতকে তারা গ্রেপ্তার করেন।
 
গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের ওই ক্যাফেতে একদল অস্ত্রধারী তরুণ হামলা চালালে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়। পরদিন ভোরে কমান্ডো অভিযানে সেই সঙ্কটের অবসান ঘটে। ওই অভিযানের আগেই ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন পাঁচজঙ্গিসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়।
 
অভিযান শেষে উদ্ধার ১৩ জনসহ ৩২ জনকে নেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে। জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করে তাদের অনেককে ছেড়ে দেয়া হলেও হাসনাত ও তাহমিদকে ফিরে না পাওয়ার কথা জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। হাসনাতের বাবা এম আর করিম এবং তাহমিদের বাবা শাহরিয়ার খান দুজনেই একাধিকবার সাংবাদিকদের বলেন, তাদের সন্তানরা বাড়িতে ফেরেনি। তারা পুলিশের কাছেই রয়েছে বলে তাদের ধারণা।
 
স্বজনদের দাবি, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম মেয়ের জন্মদিন উদযাপনের জন্য সেদিন সপরিবারে হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন। কিন্তু গুলশানের ওই ক্যাফেতে জিম্মি দশার একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশের পর হাসনাতের বিরুদ্ধে হামলায় সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা উঠে আসে ফেসবুকে।
 

অন্যদিকে ব্যবসায়ী শাহরিয়ার খানের ছেলে তাহমিদ কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। গুলশানের ঘটনার একদিন আগে দেশে ফিরে ইফতারের পর বন্ধুদের সঙ্গে তিনি ওই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন বলে পরিবারের ভাষ্য।