কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ১০টি ব্যাংক। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিতরণ না হওয়ায় এসব ব্যাংক থেকে ৮৪২ কোটি টাকা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পূর্ব ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী আগামী এক বছরের জন্য বিনা সুদে এ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কেটে রাখার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৬টি সরকারি, তিনটি বেসরকারি ও একটি বিদেশি ব্যাংক। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক আগের বছর বিতরণ করা ঋণের দুই শতাংশ এবং নতুন ব্যাংকগুলোর পাঁচ শতাংশ হারে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারি ব্যাংকগুলোকে এর তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। গত অর্থবছর সব ব্যাংক মিলে কৃষি খাতে ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ব্যাংকগুলোর বিতরণ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা।
অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ২৪৬ কোটি টাকা বেশি কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে। চলতি অর্থবছর কৃষি খাতে ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত আছে। বেশিরভাগ ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ঋণ দেওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি ভাল হলেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে দশটি ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭০২ কোটি ৫২ লাখ টাকা কম ঋণ বিতরণ করেছে।
বেসরকারি খাতের মধুমতি, এনআরবি গ্লোবাল ও ইউনিয়ন ব্যাংক কম দিয়েছে ৬৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আর বিদেশি মালিকানার ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের পাঁচ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এ খাতে এক টাকাও বিতরণ করেনি ব্যাংকটি।