শিক্ষক লাঞ্ছনায় সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততা নেই

নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনার পর বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশের করা তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেয়ার জন্য আনা হয়। কিন্তু প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ হওয়ায় সেটি গ্রহণ না করে ফেরত দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়। এর আগে গত বুধবার ওই প্রতিবেদনটি নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
 
ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের     ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানাতে বলা হয়। ওই নির্দেশ মোতাবেক গত ২৯ মে প্রশাসনের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। গত ৯ জুন হাইকোর্টে দেয়া পুলিশ সুপার ও ওসির অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে এর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এরপর হাইকোর্ট ৪ আগস্টের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা পুলিশ শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যানগণ, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ওই সব জবানবন্দি পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয়েছে যে, কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় এমপি সেলিম ওসমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
 

তবে এ বিষয়ে নিজেকে লজ্জিত ও দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষকের প্রাণ বাঁচাতে এ কাজ করেছেন বলে বরাবরই দাবি করে আসছিলেন সেলিম ওসমান এমপি।