চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, অ্যাম্বুলেন্সের অপব্যবহার, নি¤œমানের সেবাসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের ব্যাপারে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে চিকিৎসক ও স্টাফ সংখ্যা বাড়ানো গেলে এসব সমস্যা থাকবে না বলে দাবি করেছেন প্রধান চিকিৎসক ডা. মো তবিবুর রহমান শেখ।
কিন্তু চিকিৎসক ও স্টাফদের কোনও স্বল্পতা নেই, দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই সেবার মান বাড়ছে না বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চিকিৎসা কেন্দ্রে সকালে চিকিৎসকদের সময় মতো পাওয়া যায় না, দুপুরের পরে জরুরী সেবা নিতে গেলে জ্বর-সর্দির ব্যতিত প্রায় সকল রোগের ক্ষেত্রেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন চিকিৎসকগণ। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করার জন্য যে অ্যাম্বুলেন্সগুলো রয়েছে সেগুলো অনেক সময় পাওয়া যায় না। এ অ্যাম্বুলেন্সগুলো অনেক সময় দলীয় ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবার জন্য ২৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন শিক্ষা ছুটিতে এবং অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসকসহ তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া এখানে কোনও বিশেষজ্ঞও নেই। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টা, ২টা থেকে ৮টা ও রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তিনটি শিফটে চিকিৎসকদের সেবা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিকেল ও রাতের শিফটে একজনের বেশি চিকিৎসক থাকেন না। এছাড়া ইসিজি, ডিজিটাল এক্স-রে, প্যাথোলজি সেবা থাকা সত্বেও বিকল্প কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন।
চিকিৎসা কেন্দ্রে জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধান চিকিৎসক ডা. মো তবিবুর রহমান শেখ বলেন, চিকিৎসকদের দেরিতে আসার ঘটনা নতুন নয়, তবে বর্তমানে অনেক কমে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি অ্যাটেনডেন্ট মনিটরিং মেশিন বসানো হলে আর সমস্যা থাকবে না। আর অনেক সময় কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকে। এসময় বিকল্প কর্মকর্তা না থাকায় এসব যন্ত্রপাতির ব্যবহার সুনিশ্চিত করা যাচ্ছে না।’
এদিকে অ্যাম্বুলেন্সের অপব্যবহার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে কেউ কল করলেই অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। এর মধ্যে কে দলীয় বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য ডাকে তা আমরা বুঝতে পারি না।’
তবে জনবল সমস্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘চিকিৎসক-স্টাফসহ জনবলের কোনও স্বল্পতা নেই। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্বে আসার পর পর্যাপ্ত পরিমাণ স্টাফ-চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে এ সমস্যাগুলো হচ্ছে।’