বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য এটা হতে পারে এখন সবচেয়ে দামী সার্টিফিকেট। যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছিলো, সেই অবস্থাতেই ইংল্যান্ডের একজন নামকরা কোচ বলছেন, এই দেশে তিনি নিরাপদ বোধ করছেন।
বিসিবিকে স্বস্তি দিয়ে দু দিন আগেই ঢাকায় এসেছেন জাতীয় দলের ইংলিশ ফিল্ডিং কোচ রিচার্ড হ্যালসাল। গতকাল আবার কাজ শুরু করার প্রথম দিনে বললেন, এখানে তিনি নিরাপত্তার অভাব দেখছেন না।
হ্যালসালের যুক্তিও পরিষ্কার। বিশ্বের সব জায়গাতেই এখন একইরকম নিরাপত্তা সমস্যা চলছে। ফলে তিনি ইংল্যান্ডের আলাদা করে বাংলাদেশে না আসার কারণ দেখেন না।
তিনি বলেন,‘সিরিজটা হওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। আমার মনে হয় ইংল্যান্ড বিশ্বের যে কোনো জায়গায় গিয়ে খেলার ব্যাপারে কমিটেড। তবে এটা যে একটা হুমকি সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আর এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সবখানেই হতে পারে। তবে বাংলাদেশ তাদের দলের জন্য নিরাপদ কি না এটা তারা সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমি সত্যিই তাদের আশার ব্যাপারে আশাবাদী।’
এরচেয়েও বাজে পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হয়েছে জানিয়ে রিচার্ড বলেন, ‘এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমার মনে হয় সচেতনতার তৈরির কারণে ওই সময়ের চেয়ে এখনকার অবস্থা অনেক ভালো। ইংল্যান্ড দেখবে যে এখানে তাদের খেলোয়াড়রা নিরাপদ কি না। আমার মনে হয় নিরাপদ হবে।’
হ্যালসাল স্বীকার করছেন যে, পৃথিবী জুড়েই এক অস্থির সময় যাচ্ছে। ফলে এই আবহ থেকে দূরে থাকার উপায় নেই, ‘এটা কোন সাধারণ ঘটনা নয়, এটা খুবই নির্মম। কিন্তু এটা ঘটছে সারা পৃথিবী জুড়ে, বেলজিয়ামে, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে। আমরা বর্তমানে যে পৃথিবীতে থাকি সেখানে এমন ঘটনা ঘটবেই। আর এটা জনগণের জন্য খুবই দুঃখজনক। তাই আমার গভীর সমবেদনা তাদের জন্য যারা সেখানে খুন হয়েছেন।’
নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকার পরও কর্মকাণ্ডে আগের চেয়ে বেশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পাচ্ছেন জানিয়ে সাকিবদের এই কোচ বলেন, ‘অবশ্যই এ পরিস্থিতি আমাকে চিন্তায় ফেলেছে। আমি সবসময়ই ফিরে আসতে চেয়েছি। আমি একজন পেশাদার এবং আমার কাজ কোচিং করানো। বিসিবি আমার জন্য খুবই আন্তরিক। বিচক্ষণ কাজ ছিল ঘটনার পর পরিস্থিতিকে শান্ত হতে দেয়া। সত্যি কথা বলতে কি এই হুমকি এবং কর্মকা-ের পরও আমি আগের চেয়ে বেশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেয়েছি।’
জঙ্গি হামলা থেকে পৃথিবীর কোন দেশই নিরাপদ নয়। প্রতিটি দেশেই এমন ঘটনা ঘটছে জানিয়ে হ্যালসল বলেন, ‘এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। এটা ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানির জন্যও। আমাদের এখন বিচক্ষণ হতে হবে, সঠিক লোকদের সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ইংল্যান্ড টানা খেলার মধ্যে আছে, অন্যদিকে ছয় মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সাকিব-তামিমদের জন্য এটা কতটা হতাশার? এমন প্রশ্নে জবাবে হ্যালসল বলেন, ‘আমার ধারণা সবাই মুখিয়ে আছে। এটাকে নেতিবাচক হিসেবে নিলে আমরা কঠিন লড়াই করতে পারবো না। তবে ইংলিশরা ক্লান্তিতে পড়তে যাচ্ছে কারণ গত তিন মাসে তারা সাতটি টেস্ট খেলেছে। এক্ষেত্রে তারা কি তাদের সেরা খেলোয়াড় নিয়ে আসতে পারবে! এটাকে সুবিধা হিসেবে দেখতে হবে আমাদের।’