বারৈচা-রায়পুরা উপজেলার প্রধান সড়কের রায়পুরা-শ্রীরামপুর সংযোগ সড়কের কাকন নদীর উপর নির্মাণাধীন ৩’শ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটির উচ্চতা কম হওয়ায় স্থানীয় নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। রায়পুরার প্রায় দু’শ বছরের নৌ-যোগাযোগের ঐতিহ্য নষ্ট হওয়ার পথে। এ অবস্থায় সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে উপজেলার চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের মানুষ তাদের উত্পাদিত ফসলাদি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামপুর বাজারে নৌকাযোগে আসতে পারবেন না। এ নদী পথ দিয়ে রায়পুরা ও শ্রীরামপুর বাজারে ভৈরব, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেওয়া করে থাকেন। কম উচ্চতার সেতু নির্মিত হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি জনসাধারণও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
জানা যায়, মেঘনা নদীর শাখা কাকন নদী উপজেলা সদরের রায়পুরা পুরাতন বাজার, ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামপুর বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। রায়পুরা-শ্রীরামপুর সংযোগ সড়কের শতাধিক মিটার অতিক্রম করে কাকন নদীর আরো দুটি পৃথক শাখা হয়ে বয়ে গেছে। বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এসব শাখা নদী দিয়ে ১০-২০ গ্রামের মানুষ আসা-যাওয়া করে।
কিন্তু রায়পুরা-শ্রীরামপুর সংযোগ সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বর্তমানে নির্মাণাধীন সেতুটির উচ্চতা আগের সেতুর চেয়েও কয়েক ফুট নিচু। ফলে সেতুটির নিচ দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে উপজেলার সামাজিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন ইতোমধ্যে সেতুটির উচ্চতা বাড়িয়ে তা পুনর্নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলন রায়পুরা শাখা ও শ্রীরামপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইফতেখার আহমেদ ভূঞা ইতু বলেন, সেতুর উচ্চতা বাড়ানো না হলে উত্পাদিত ফসলাদি নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের মানুষ। তাছাড়া কর্তৃপক্ষ একটি পথ চালু করতে গিয়ে আরেকটি পথ বন্ধ করতে পারে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন সবদিক মাথায় রেখেই সেতু নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নরসিংদী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ডিজাইন অনুযায়ী সেতু নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে পূর্বের ন্যায় সকল নৌযান চলাচল করতে পারবে।
ইত্তেফাক/ এ এন