পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙ্গন না থাকলেও পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীর রক্ষায় স্থাপন করা সিসি ব্লক হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ মিটার এলাকার সিসি ব্লক পদ্মা নদীতে ধসে পড়েছে। সিসি ব্লকের ধস ঠেকাতে সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড এক হাজার জিও ব্যাগ নদীতে ফেললেও তা তেমন কাজে আসছেনা বলে দাবি করছে এলাকাবাসী।
তারা বলেন, লালপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী পালিদেহা, গৌরীপুর, নুরুল্লাপুর, লক্ষীপুর, তিলকপুর ও নবীনগর গ্রাম হুমকির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানায়, শুস্ক মৌসুমে নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তলদেশ থেকে বালি উত্তোলনের কারণেই সিসি ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে সিসি ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদ্মা নদীর লালপুর উপজেলার নবীনগর, লক্ষীপুর, পালিদেহা, ও গৌরীপুর এলাকা থেকে প্রভাবশালী একটি মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। যে কারণে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বালু মহাল ইজারা না হলেও নদী থেকে বালু উত্তোলন থেমে থাকে না। প্রতি বছরই নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হয়।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালু মহাল নিয়ে মামলা থাকায় ২০০৯ সাল থেকে লালপুরের বালু মহাল ইজারা দেয়া হয়নি। এছাড়া পালিদেহা, নবীনগর ও লক্ষীপুর এলাকা বালু মহাল হিসেবে ঘোষণা হয়নি। যে কারণে ইজারা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, এলাকাবাসীর দাবির মুখে পালিদেহার একটি মসজিদ রক্ষার্থে পদ্মা নদীতে ধসে যাওয়া ব্লকের কাছে এক হাজার জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীর তীর রক্ষার কাজটি অনেক আগের হওয়ায় প্রতি বছরই কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়ছে। বালু উত্তোলনের কারণেই নদীর তীর রক্ষায় ব্যবহৃত ব্লক নদীতে ধ্বসে পড়ছে এলাকাবাসীর এ কথা ঠিক নয়।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ