নায়ক যখন রসিকরাজ

 
শোবিজ দুনিয়ায় শিল্পীরা নিজের সুরের সুধারস ছড়িয়ে বেড়ান দেশ থেকে দেশে। খুব সঙ্গত কারণেই শিল্পীদের আকাশ ভ্রমনে থাকতে হয় বারংবার। প্রখ্যাত অভিনেতা, নির্মাতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শামীম শাহেদ তার দীর্ঘ ভ্রমন জীবনে এমনই কিছু দারুণ ভ্রমনের গল্প লিখছেন শুধুমাত্র বিনোদন প্রতিদিনে। আজ ছাপা হলো  সাজু খাদেম ও তারকারসবোধ প্রসঙ্গ নিয়ে —
 
সাজু খাদেম অত্যন্ত রসিক মানুষ। রসিকরাজ বলা যেতে পারে। দেশের চাইতে বিদেশের মাটিতেই তার সঙ্গে আমার বেশি দেখা হয়। আর দেখা হলেই জোকসের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আমি একটা বলি তো সাজু তিনটা বলেন। সেদিন আমি জ্যাকসন হাইটসের রাস্তা ধরে হাঁটছি, হঠাত্ দেখি সাজু খাদেম। ভক্তকুল বেষ্টিত। এই ঘটনায় পরে আসছি। তার আগে একটু ইউরোপ ঘুরে আসি।
 
ইউরোপ ট্যুরে এসে আমি এবার প্রথম ভেজিটিরিয়ান কাক দেখলাম। জাতিতে কাক; কিন্তু ঘাস খাচ্ছে। আবার শরীর জুড়ে এতই চর্বি, এতই মোটাসোটা যে উড়তেও পারে না। উড়লেও খুব আস্তে ধীরে। এখানকার কাক আবার ‘ক্যা ক্যা’ করে ডাকে না। কেমন যেন একটা কোঁ কোঁ শব্দ করে ডাকে। অনেকটা আমাদের দেশের কাক আর পাখির ডাকের মাঝামাঝি।
 
IMG0
এইরকম একটা কোঁ কোঁ শব্দে প্রতিদিন আমার ঘুম ভাঙে। ফলে আমি কোনোভাবেই বলতে পারছি না প্রতিদিন পাখির ডাকে আমার ঘুম ভাঙে। বলতে হবে কাকের কোঁ কোঁ শব্দে ঘুম ভাঙে। অবশ্য কাক তো পাখির পর্যায়েরই।
মুন বলল, ‘কাকগুলো চর্বির কারণে উড়তে পারে না, তা কিন্তু না। আসলে এরা বয়স্ক কাক। এখানে কাকেরাও নিশ্চয় অনেক দিন বাঁচে।’ তাহলে কি ইওরোপের কাকেরা শেষ বয়সে এসে ভেজিটিরিয়ান হয়ে যায়! মুন আমার কথার কোনো জবাব না দিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল।
বিষয়টা আমার ভালো লাগল । ইউরোপের আবহাওয়া, পরিবেশ সবকিছুরই জীবনীশক্তি বাড়িয়ে দেয়। ইউরোপ অন্যতম জায়গা, যেখানে দেখেছি শতবর্ষী বৃদ্ধরা সুন্দর সন্দর জামাকাপড় পরে জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সব চাইতে প্রকট রঙগুলো তাদের শরীরেই থাকে। আমাদের দাদি নানিরা যখন মৃত্যুর জন্য জামা কাপড় গোছায় তখন এই দেশের বৃদ্ধরা নতুন করে প্রেমে পড়ে।
 
এদিকে জাহিদ সোহেল আর পিংকি মিলে সিদ্ধান্ত নিল তিনদিন আমরা বনের ভিতরে থাকব। সোহেল আমার ছোট ভাই, পিংকি তার স্ত্রী। চমত্কার একটা বাড়ি ভাড়া করা হল। আশেপাশে মাইল পাঁচেক এর মধ্যে কোনো জন মানুষ নাই। সকালে কাঠবিড়ালির আসা যাওয়া আর ঘুঘুর ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। তিনদিন চমত্কার সময় কাটানোর পর বাড়ির মালিক এলেন আমাদের বিদায় জানাতে। সঙ্গে এক বৃদ্ধা। চমত্কার ব্যবহার। কথা প্রসঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে বললেন, ‘ও হচ্ছে জেসিকা। আমার গার্লফ্রেন্ড।’
 
IMG1
আমার মুখ ‘হা’ হয়ে গেল। বলে কি এই লোক!  আশির ওপর বয়স, সঙ্গে গার্লফ্রেন্ড। কি সৌভাগ্য! আশেপাশে শেখার কতকিছু আছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে উঠল মুন, ‘যা শেখার দেশে গিয়ে শিখ।’
ইত্তেফাকে আমার গত দিনের লেখাটাতে নাকি জোক একটা কম ছিল। জনপ্রিয় ছড়াকার, রম্যলেখক, নাট্যকার খায়রুল বাবুই সেটা আবার তার ফেইসবুক প্রোফাইলে লিখে দিল। তাই পাঠকদের জন্য একটি জোকস দিলাম -
আমাদের দেশে কত ঝামেলা! প্রেম করো অথবা ছেলে দেখো, মেয়ে দেখ, বিয়ে কর, কত ঝামেলা। একবার এক লোক ফ্যামিলি মেম্বারদেরকে নিয়ে গেছে তার নিজের জন্য মেয়ে দেখতে। মেয়ের বাড়ির ড্রইংরুমে সবাই বসে অপেক্ষা করছে। মেয়ে কখন আসে। মেয়ের বাড়িতে ছেলে নিজে গেলে কী হয়, মেয়ের বাড়ির আত্মীয় স্বজন পর্দার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে ছেলেকে দেখার চেষ্টা করে। মেয়ের মা-ও তেমনি পর্দা উঁচু করে ছেলেকে দেখা চেষ্টা করলেন। এক নজর দেখেই আঁেক উঠলেন, ‘শয়তানটা এখনো বিয়া করে নাই। আমারেও দেখতে আসছিল!’
 
IMG2
সাজু খাদেমের সঙ্গে দেখা হলে এই ধরনের জোকসঘটিত সমস্যায় পড়তে হয়। আমি একটা বলি তো সাজু তিনটা বলে। তাই যে কোনো অনুষ্ঠানে মূলত আমি সাজুকে উসকে দেবার জন্যই জোকস বলি। যাতে আমার দূর্বল জোকসের পর পরই সাজু খাদেমের কিছু ক্লাস্কি জোকস শুনতে পাই।
 
 জোকসের বিষয় যে কোন দিকে যায় বলা মুশকিল। সাজুর বক্তব্য, মজার জোক সবসময় শ্লীলতার বর্ডারে থাকে। নিউইয়কের্র প্রিমিয়ামে বসেও তুমুল আড্ডা হল। আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে চা। এক কাপ চা দুই ডলার। মানে বাংলাদেশের একশ ষাট টাকার বেশি। বুঝতেই পাড়ছেন অবস্থা। আমাদেরকে বিল দিতে না দিলেও বিল দেওয়ার সময় এক একজনের মুখ যে শুকিয়ে যাচ্ছিল সেটা দেখে একটা জোক মনে পড়ে গেল।
তিন বন্ধু একটা চায়ের দোকানে ঢুকল চা খেতে। ‘মামা, এক কাপ চা দেন, আর দুইটা খালি কাপ দেন।’
একটু পর সেখানে যোগ দিল আরও বন্ধু। ‘মামা, লগে আরও দুইটা খালি কাপ।’
পাঁচজন মিলে এক কাপ চা ভাগাভাগি করে খেয়ে কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়াল, ‘বিল কত?’
ম্যানজার ক্যাশ বাক্স থেকে মুখ তুলে বলল, ‘বিল লাগব না, কাপগুলো ধুয়ে দিয়ে যান।’
লেখক : গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব, নাট্যকার, উপস্থাপক