মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা ঠিক হবে না। তিনি হোয়াইট হাউসের দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত নন বলে বলেছেন দেশটির ৫০জন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। এক খোলা চিঠিতে রিপাবলিকান দলের এই বিশেষজ্ঞরা তাকে ভোট না দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছেন। এদের অনেকেই সর্বশেষ রিপাবলিকান সরকার জর্জ বুশের সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অর্থনৈতিক নীতি ঘোষণা করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি তার নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন এই নীতি বাস্তবায়িত হলে ধনীরা আরো ধনী ও গরীবরা আরো গরীব হবেন। খবর বিবিসি ও সিএনএন’র
গত সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রথমবারের মতো খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ট্রাম্প নির্বাচিত হলে আমেরিকান ইতিহাসে সবচেয়ে অবিবেচক প্রেসিডেন্ট হবেন বলেও তারা মনে করেন। খোলা চিঠিতে তারা বলেন, একজন প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালনে ট্রাম্পের চারিত্রিক দুর্বলতা, মূল্যবোধ এবং অভিজ্ঞতা অভাব রয়েছে। ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সিআইএ প্রধান মাইকেল হেইডেন, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান পরিচালক জন নেগ্রোপোন্টে, সাবেক উপমন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট যোয়েল্লিক, জর্জ বুশের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি টম রিজে, মাইকেল চেরটফ। চিঠিতে তারা স্বীকার করেন, হিলারিকে নিয়েও তাদের সন্দেহ আছে। তবে তাই বলে বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট করলে বিশ্ব বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে। চিঠির খসড়া তৈরি করেছেন জন বেলিঞ্জার যিনি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিসা রাইসের আমলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ছিলেন। সম্পাদনা করেছেন বব ব্ল্যাকউইল এবং এলিয়ট কোহেন। বব ব্ল্যাকউইল জর্জ এইচ. ডাব্লিউ বুশের আমলে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এলিয়ট কোহেন রাইসের আমলে উপদেষ্টা ছিলেন। বেলিঞ্জার বলেন, পাঁচ দিন আগে চিঠিটি প্রচার করা হয়। তবে এখন কিছুটা সম্পাদনা করা হয়েছে। তবে এর জবাবে ট্রাম্প বলছেন, তারা সবাই ওয়াশিংটনের এমন ব্যক্তি যারা বিশ্বকে একটি বিপদজনক স্থানে পরিণত করার জন্য দায়ী।
অর্থনীতি ঘোষণা ট্রাম্পের
ক্ষমতায় এলে ব্যবসা থেকে পাওয়া যে কোনও আয়ের উপরে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ কর ধার্য করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল ডেট্রয়েটে এক বক্তৃতায় এ কথা জানান রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হস্তান্তরের উপরে কর তুলে দিতে চান তিনি। করমুক্ত করতে চান শিশুর লালনপালন সংক্রান্ত সব খরচকে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন কর ব্যবস্থায় কেবল তিনটি শ্রেণী থাকা উচিত। ‘চাকরির সুযোগ নষ্ট করতে ওস্তাদ’ আমলাদের সরানোর হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প মূলত করের বোঝা কমাতে চান। তিনি বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিও বাতিল করবেন।